arati saha
ইংলিশ চ্যানেল জয়ী আরতি সাহা।

ওয়েবডেস্ক: দেখতে দেখতে ভারতের স্বাধীনতা ৭২ বছরে পড়ল। এই দীর্ঘ সময়ে খেলাধুলার ক্ষেত্রে ভারতের কপালে অনেক সম্মান জুটেছে। স্বাধীন ভারতের প্রথম ২৫ বছরের এ রকমই কিছু স্মরণীয় ঘটনা বেছে নেওয়া হল।

১। ১৯৪৮: অলিম্পিকে স্বাধীন ভারতের প্রথম সোনার পদক

ভারতের হকি দল এর আগেও অলিম্পিকে সোনা পেয়েছে। কিন্তু লন্ডন অলিম্পিক্সেই প্রথম স্বাধীন ভারতের জাতীয় সংগীত গাওয়া হল। হকি দল ২-১ গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাক্তন প্রভু ব্রিটেন। তারা ফাইনালে গিয়েছিল পাকিস্তানকে হারিয়ে। ফাইনালে সেই প্রাক্তন প্রভুরা দুরমুশ ৪-০ গোলে।

২। ১৯৫১: প্রথম এশিয়ান গেমস ভারতে

এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী আসরটি বসেছিল রাজধানী দিল্লিতে, ১৯৫১-এর মার্চে। ১১টি দেশের প্রতিযোগীরা ৫৭টি ইভেন্টে যোগ দিয়েছিল। পদক তালিকায় ভারতের স্থান ছিল দ্বিতীয়, জাপানের পরেই।

৩। ১৯৫১: এশিয়াড ফুটবলে ও দৌড়ে সোনা

শৈলেন মান্নার অধিনায়কত্বে ভারতীয় ফুটবল দল ফাইনালে ইরানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সোনা জেতে। ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে সোনা জেতেন ভারতের লেভি পিন্টো।

৪। ১৯৫২: অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম পদক কে ডি যাদবের

এত দিন হকি দলের জয়ের সুবাদে ভারত দলগত ইভেন্টে পদক পেয়ে এসেছে। এ বার হেলসিঙ্কি গেমসে পদক এল ব্যক্তিগত ইভেন্টে। কুস্তিতে ব্যান্টমওয়েট ক্যাটেগরিতে ব্রোঞ্জ পেলেন মহারাষ্ট্রের খসবা দাদাসাহেব যাদব।

৫। ১৯৫২: অলিম্পিক হকিতে ভারতের পঞ্চম সোনা

হকির সোনা ভারতের তখন প্রায় বাঁধা। হেলসিঙ্কি গেমসে হকির ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ৬-১ গোলে পর্যুদস্ত করে আবার সোনা জয় ভারতের। এই নিয়ে পাঁচ বার।

৬। ১৯৫২: এশিয়ান টেবিল টেনিসে সোনার পদক গুল নাশিকওয়ালার

টেবিল টেনিসে তখন চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিরই প্রাধান্য। সেই আধিপত্যে ভাগ বসাল ভারত। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে গুল নাশিকওয়ালা তিনটি সোনার পদক পেলেন – মেয়েদের সিঙ্গলসে, মেয়েদের ডাবলসে এবং মিক্সড ডাবলসে।

৭। ১৯৫২-৫৩: ভারতের প্রথম ক্রিকেট টেস্ট সিরিজ জয়

লালা অমরনাথের নেতৃত্বে পাকিস্তানকে ২-১ ম্যাচে হারিয়ে ভারত প্রথম ক্রিকেটে টেস্ট সিরিজ জিতল। পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে ভারতে এসেছিল পাকিস্তান। প্রথম টেস্ট (দিল্লি) এবং তৃতীয় টেস্টে (বোম্বে) জেতে ভারত। লখনউয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে জেতে পাকিস্তান। মাদ্রাজের চতুর্থ টেস্ট ও কলকাতার পঞ্চম টেস্ট ড্র হয়।

৮। ১৯৫৬: আবার অলিম্পিক হকিতে সোনা

হকিতে সোনার পদক পাওয়া তখন যদিও জলভাত হয়ে গিয়েছিল ভারতের, তবুও প্রতিদ্বন্দ্বীরাও উঠে আসছিল একটু একটু করে। তাদের মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান। মেলবোর্নে অলিম্পিক হকির ফাইনালে পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সোনা জিতল ভারত।

৯। ১৯৫৬: অলিম্পিক ফুটবলে পদকের সব চেয়ে কাছে আসা

মেলবোর্নে অলিম্পিক ফুটবলে পদক একটুর জন্য হাতছাড়া হয়ে গেল ভারতের। হাঙ্গেরির কাছ থেকে ওয়াকওভার পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নেভিল ডিসুজার হ্যাটট্রিকের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ভারত। কিন্তু স্বপ্ন পূরণ হল না। যুগোস্লাভিয়ারা কাছে ৪-১ গোলে হেরে পদক জয়ের আশা দুরেই থাকল ভারতের।

১০। ১৯৫৮: কমনওয়েলথ গেমসে কুস্তিতে প্রথম সোনা

কুস্তিতে একটু একটু করে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করছিল ভারত। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলি থেকে পদক আসতে শুরু করল। কার্ডিফে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে কুস্তিতে প্রথম সোনা এল ভারতের ঝুলিতে। ফ্রিস্টাইল কুস্তির হেভিওয়েট ক্যাটেগরিতে লীলা রাম সাঙ্গোয়ান সোনা জিতলেন।

mihir sen
সপ্ত সিন্ধু জয়ী মিহির সেন।
১১। ১৯৫৮: প্রথম ভারতীয়র ইংলিশ চ্যানেল জয়

সাঁতরে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করাটা সাঁতারুদের কাছে একটা স্বপ্ন। ডোভার ও ক্যালাইসের মধ্যে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে প্রথম ভারতীয় হিসাবে সেই অসাধ্য সাধন করলেন মিহির সেন।

১২। ১৯৫৯: প্রথম ভারতীয় মহিলার ইংলিশ চ্যানেল জয়

ঠিক এক বছর পরে ইংলিশ চ্যানেল ফের বিজিত হল আরও এক ভারতীয়র কাছে। তবে এ বার আর পুরুষ নয়, মহিলা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৬ ঘণ্টা ২০ মিনিটে চ্যানেল অতিক্রম করে খেলাধুলার ইতিহাসে জায়গা করে নিল বাংলার আরতি সাহা।

ramanathan krishnan
রমানাথন কৃষ্ণন। ছবি সৌজন্যে স্পোর্টসস্টারলাইভ।
১২। ১৯৬০: উইম্বলডন সেমিফাইনালে প্রথম ভারতীয়

লন টেনিস তখনও ভারতে তত জনপ্রিয় নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই খেলার মর্যাদাই আলাদা। আর এই খেলায় উইম্বলডন হল এক নম্বর মঞ্চ। সেখানে বাছাই খেলোয়াড় হিসাবে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই বড়ো কথা। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে সপ্তম বাছাই রমানাথন কৃষ্ণন পৌঁছে গেলেন সেমিফাইনালে। কিন্তু এই রাউন্ডেই তাঁর জয়যাত্রায় বাধ সাধলেন নিল ফ্রেজার। শেষ পর্যন্ত তিনিই চ্যাম্পিয়ন হন।

১৩। ১৯৬০: ‘উড়ন্ত শিখ’ মিলখার ব্যর্থতা

১৯৫৮-য় টোকিও এশিয়ান গেমসে ২০০ আর ৪০০ মিটার সোনা জিতে আশা রোম অলিম্পিক্সে আশা জাগিয়েছিলেন মিলখা। ৪০০ মিটার দৌড়ে প্রায় অর্ধেক পথ এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ফোটো ফিনিশে পদক হাতছাড়া করলেন। ভারতবাসীর এই আপশোস কখনও যাবে না।

১৪। ১৯৬১-৬২: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ক্রিকেট টেস্ট সিরিজ জয়

ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ড। সেই ইংল্যান্ডকে সিরিজে হারানো চাট্টিখানি কথা নয়। সেই অসম্ভব সম্ভব হল। ভারতে পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে এসেছিল ইংল্যান্ড। প্রথম তিনটি ড্র থাকার পর ইডেন গার্ডেন্সে চতুর্থ টেস্টে এবং মাদ্রাজের চিপকে পঞ্চম টেস্টে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম সিরিজ জিতল ভারত।

ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি চুণী গোস্বামী পদক নিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণনের কাছ থেকে। ছবি সৌজন্যে গোলডটকম।
১৫। ১৯৬২: এশিয়াড ফুটবলে ভারতের দ্বিতীয় সোনা

অধিনায়কত্বে চুণী গোস্বামী, সঙ্গে পিকে-বলরাম-থঙ্গরাজ-জার্নেল। রয়েছেন অরুণ ঘোষ, প্রদ্যুত বর্মণ, প্রশান্ত সিনহা, অরুময় নৈগমও – এক সে বড়কর এক। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে গ্রুপে দ্বিতীয়। সেমিফাইনালে দক্ষিণ ভিয়েতনামকে ৩-২ গোলে হারানো। তার পর ফাইনালে ফের দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি। এ বার আর ভুল করল না চুণীর দল। ২-১ গোলে জয়। ভারতের হয়ে গোল করলেন পিকে আর জার্নেল। জাকার্তা এশিয়ান গেমস থেকে সোনা আনল ভারতের ফুটবল দল।

১৬।  ১৯৬২: এশিয়ান গেমসে বক্সিং-এ ভারতের প্রথম সোনা

এই প্রথম এশিয়ান গেমসে বক্সিং-এ ভারত সোনা পেল। জাকার্তায় আয়োজিত ওই গেমসে ভারতের হয়ে সোনা জিতলেন পদম বাহাদুর মল।

১৭। ১৯৬২: ভারতীয় হকির সোনার প্রত্যাবর্তন

রোম অলিম্পিক্সে পরাজয়ের শোধ তুলল ভারত টোকিও অলিম্পিক্সে। রোমে হকির সম্মান ভারতের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল পাকিস্তান। টোকিওয় ভারত পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল জিতল।

১৮। ১৯৬৫: ভারতীয়দের মাউন্ট এভারেস্ট জয়

এই প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয়দের নিয়ে গড়া একটি দল এভারেস্ট শিখরে পা রাখল। অবতার সিং চিমার নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা বাহিনীর একটি দল পৌঁছোল এভারেস্ট শীর্ষে। একে একে ন’ জন পর্বতারোহী শৃঙ্গ জয় করলেন। পরের ১৭ বছর এই রেকর্ড অক্ষুণ্ণ ছিল।

১৯। ১৯৬৭: বিদেশে প্রথম ক্রিকেটের টেস্ট সিরিজ জয়

ক্রিকেটে ভারত আর যে হেলাফেলার নয়, সেটাই প্রমাণ করল মনসুর আলি খান পটৌডির নেতৃত্বাধীন দল। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তারা নিউজিল্যান্ডকে হারাল ৩-১ ফলাফলে।

২০। ১৯৭১: ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় করল ভারতীয় ক্রিকেটারেরা

এ বোধহয় স্বপ্নেও কেউ ভাবতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো? অসম্ভব। দুরন্ত পিচ, আগুনে বল – এ সব সামলে ভারতের জয়? কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করল অজিত ওয়াড়েকরের দল। দিলীপ সারদেশাই যেন ‘রক অফ জিব্রাল্টার’। নতুন তারকা সুনীল গাওস্করের উদয়। পাঁচ টেস্টের সিরিজে চারটি টেস্ট ড্র। পোর্ট অফ স্পেনের কুইনস পার্ক অভালের দ্বিতীয় টেস্টে ভারত জিতল ৭ উইকেটে। ১-০ ফলে ভারতের হাতে সিরিজ।

২১। ১৯৭১: ইংল্যান্ডও জয় ভারতের

টেস্ট ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের। লন্ডনের ওভালে তৃতীয় টেস্টে ভগবত চন্দ্রশেখর গুঁড়িয়ে দিলেন ইংল্যান্ডকে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮টি উইকেট পকেটে পুরলেন। পাশে পেলেন বেদী ও বেঙ্কটরাঘবনকে। তিন টেস্টের সিরিজ ভারত দখল করল ১-০ ফলে।

 

 

 

 

 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন