wpp
মেরঠে বন্দি ২৫ সদস্য। ছবি: ইন্টারনেট থেকে

ওয়েবডেস্ক: পরাধীন ভারতের শক্তিশালী বামপন্থী সংগঠন ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে কয়েক দশক আগেই। কিন্তু কী কারণে ওই পার্টি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে পুরোপুরি মুছে গেল?

১৯২৫ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় কংগ্রেসের অধীনেই প্রতিষ্ঠিত হয় লেবার স্বরাজ পার্টির। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন কাজি নজরুল ইসলাম, কতুবউদ্দিন আহমেদ এবং হেমন্তকুমার সরকারের মতো বেশ কয়েক জন বামপন্থী মনোভাবাপন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। মাস তিনেক ঘুরতেই পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই দলের নাম বদলে হয় ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি (ডব্লিউপিপি)। এর নেপথ্যে অবশ্য ছিল তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের বড়োসড়ো ভূমিকা। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির তরফে ডব্লিউপিপি সংগঠকদের সে রকমই নির্দেশ দেওয়া হয়।

ডব্লিউপিপি-র প্রথম সভাপতি হন নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত। যিনি এক দিকে বিশিষ্ট আইনজীবী অন্য দিকে প্রখ্যাত প্রগতিশীল সাহিত্যিক।  কলকাতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। ভারতীয় আইন কমিশনের সদস্য হন ১৯৫৬ সালে। প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন। তাঁকে নিয়ে সাহিত্যে অশ্লীলতা ও নীতি-দুর্নীতির বিতর্ক হয়। সেই তিনি ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টির প্রথম সভাপতি (১৯২৫-২৬)।

আরও পড়ুন: বিস্মৃতপ্রায় বিভি দল, যে দলের সদস্য ছিলেন রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের নায়ক

পরাধীন ভারতে ডব্লিউপিপি যথেষ্ট বিস্তার লাভ করতে শুরু করে। বাংলা ছাড়িয়ে এই সংগঠনের বিস্তার ঘটে মুম্বই, পঞ্জাব, চেন্নাই এবং উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশেও। বিশেষ করে সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে ডব্লিউপিপি-র আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। কলকাতা ও মুম্বইয়ে ধর্মঘট পালিত হয়। সদস্য সংখ্যা কম হলেও এই সংগঠনের যুব শাখা ইয়াং কমরেডস লিগও ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করছিল।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রথম ছাত্রী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলায়, করেছিলেন বিপ্লবী লীলা নাগ

সেই তেমনই এক সংগঠন কয়েক দশক আগেই ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে অমিল। কারণ হিসাবে বহুবিধ মত রয়েছে এ ব্যাপারে। একটি মহল থেকে যু্ক্তি হিসাবে বলা হয়, ১৯২৯-এ আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সংগঠনের থেকে এ দেশের কমিউনিস্টদের (সিপিআই) বলা হয় ডব্লিউপিপি-র সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে। অন্য দিকে মেরঠ ষড়যন্ত্র মামলা একাধিক ডব্লিউপিপি নেতাকে গ্রেফতার করার প্রভাব সহ্য করে উঠতে পারেনি সংগঠন।  তবে অন্য আর একটি মহলের মতে, সিপিআই এবং জাতীয় কংগ্রেসের যুগ্ম ইন্ধনেই ডব্লিউপিপি বিলুপ্ত হয়ে যায়। যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক প্রামাণ্য-তথ্য নেই।

(বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম থেকে সংগৃহীত তথ্য। কোনো তথ্যই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন