Jhargram
চাঁদমণি পাতরের পরিবার। ছবি: প্রতিবেদক

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ইতিহাসে ঠাঁই মেলেনি নেতাজির সভাসঙ্গী ঝাড়গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামী চাদঁমণি পাতরের। স্বাধীনতার ৭২ বছরেও তাঁর উঠোনে ওড়েনি তেরঙা পতাকা। নেতাজির প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, রাজরোষে পড়ার ভয়ে সে সময় অনেকই ছদ্মনাম নিয়েছিলেন। এখন যা তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রামের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সাধ্যমতো তুলে ধরেছেন প্রখ্যাত সাংবাদিক তারাপদ কর তাঁর “নেতাজি সুভাষচন্দ্রের ঝাড়গ্রাম সফর” পুস্তিকাতে। স্থানীয় বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম ও বর্ণনা ছবি-সহ পুস্তিকাতে রয়েছে। যেমন চাঁদড়া এলাকার মুচিরাম সিং, কিশোরীমোহন মাহাত, শশধর পাল, রামচন্দ্র মাহাত, মানিকপাড়া এলাকার চন্দ্রাবতী মাহাত প্রভৃতি। তথাপি মানিকপাড়া এলাকায় চন্দ্রাবতীর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত বছর খবরঅনলাইনে তাঁর ছবি-সহ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁর খোঁজখবর শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই স্বাধীনতা সংগ্রামী আসলে চাঁদমণি পাতর। বাড়ি মানিকপাড়ার চৌকিচটি গ্রামে। নেতাজির প্রত্যক্ষদর্শী বরবাড়ি গ্রামের ভুবন মাহাতর কথায়, “ওই দিক থেকে সুঠাম চেহারার এক মহিলা গোপন মিটিংয়ে আসতেন। আসল নাম না বলে সবাই ‘গান্ধী বুড়ি’ বলে ডাকত। ভয়ে অনেকেই ছদ্মনাম নিয়ে ছিলেন”।

Bhuban Mahat
ভুবন মাহাত। ছবি: প্রতিবেদক

এলাকার সমাজসেবী তথা আমডিহা গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য মহাশিস মাহাত এ ব্যাপারে জানান, চাঁদমণি পাতরের জন্মভিঠা চৌকিচটি গ্রাম গিয়ে তাঁর ভাইপো চৌষট্টি বছর বয়সি নবীন পাতরের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম যে মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশী আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় চাঁদমণি পাতর দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। এই এলাকায় তাঁর প্রভাব ছিল । জীবনের শেষের দিকে তিনি চিঙগুড়কষা গ্রামে থাকতেন। ওই গ্রামের আর এক এই এলাকার বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী রাম মাহাতর বাড়িতে। রাম মাহাতকে তিনি ‘ধর্মপুত্র’ করেছিলেন।


পড়তে পারেন: ১৫ আগস্ট: ভারতের স্বাধীনতার দিনে বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস


এ ছাড়াও আমডিহা গ্রামের দয়াল মাহাত, অবিনাশ মাহাত স্বাধীনতা সংগ্রামে এই এলাকার মানুষদের সংগঠিত করেছিলেন। এঁদের কথা কেউ তেমন মনে রাখেনি। বর্তমানে তাঁদের পরিবারগুলিও অসহায় ভাবে দিন কাটাচ্ছে। চাঁদমণি পাতরের ভাইপো চৌষট্টি বছরের নবীন পাতর দিন মজুরি করে সংসার চালান। এসটি ভাতাও পাননি। এলাকার মানুষ চান, সরকার এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন