‘সেমিফাইনাল, আমরা তৈরি’, নিউজিল্যান্ডকে পিষে হুঙ্কার মিতালিদের

0
476

ভারত ২৬৫-৭ (মিতালি ১০৯, বেদা ৭০, হরমনপ্রীত ৬০, কাস্পেরেক ৩-৪৫)

নিউজিল্যান্ড ৭৯, (স্যাথেরঅয়েট ২৬, মার্টিন ১২, গায়েকওয়াড় ৫-১৫)

ডার্বি: রাজ করলেন মিতালি, রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন বেদা কৃষ্ণমূর্তি, ঘূর্ণিতে বিপক্ষকে ঘুরিয়ে দিলেন গায়েকওয়াড়। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডকে পিষে দিয়ে মহিলা বিশ্বকাপের শেষে চারে পৌঁছে গেল ভারত।

একদিনের মহিলা ক্রিকেটে খুব শক্তিশালী দল নিউজিল্যান্ড, অন্য দিকে তুলনায় অনেক কম শক্তিধর ভারতীয় দল। সেই নিউজিল্যান্ডের ওপর ভারত এ রকম ভাবে বুলডোজার চালিয়ে দেবে সেটা কল্পনাও করাও যায়নি। শেষ দু’টো ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হেরে ভারতের মনোবল কিছুটা হলেও দুর্বল হয়েছিল। সেই মনোবল আবার চাঙ্গা।

যে কোনো নক আউট ম্যাচে অধিনায়ক চাইবেন প্রথমে ব্যাট করে বিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এখানেই ভুল করে নিউজিল্যান্ড। টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিং-এ পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক সুজি বেটস। এখানেই হাতে চাঁদ পেয়ে যান মিতালিরা। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারালেও মিতালির সঙ্গে হরমনপ্রীতের দুরন্ত পার্টনারশিপে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত।

আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভালো ব্যাট করলেও, অসম্ভব মন্থর গতির ইনিংস খেলেছিলেন মিতালি। এ দিন সেটা শুধরে নেন তিনি। অন্য দিকে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে যান হরমনপ্রীত। হাতে চোট থাকা সত্ত্বেও যে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হরমনপ্রীত ব্যাট করলেন সেটা প্রশংসার যোগ্য। নিজের কেরিয়ারের নবম অর্ধশতরান করেন তিনি। হরমনপ্রীত আউট হওয়ার পর, কোনো রান না করে ফেরেন দীপ্তি শর্মা। ভারত তখন চার উইকেটে ১৫৪। হাতে রয়েছে তেরো ওভার।

এর পরের তেরো ওভার বেদা কৃষ্ণমূর্তি যে ভাবে রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন, সেটা সাধারণত পুরুষদের ক্রিকেটে দেখা যায়। তাঁর দাপটের সামনে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা রীতিমতো তটস্থ। ততক্ষণে ‘রোল’ পালটে ফেলেছেন মিতালি। হরমনপ্রীতের সঙ্গে জুটিতে তিনিই ছিলেন আগ্রাসী, কিন্তু এই জুটিতে টুকটাক খুচরো রান নিয়ে বেদাকে স্ট্রাইক দিতে দেখা গেল তাঁকে। অবশ্য সেটাই তো স্বাভাবিক। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসেই আড়াইশো পেরিয়ে গেল ভারতের স্কোর। কেরিয়ারের ষষ্ঠ শতরান করলেন মিতালি।

ভারতের রান তাড়া করতে নেমে, নিউজিল্যান্ড অকল্পনীয় ভাবে ভেঙে পড়ল। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে এক জনই রাজ করলেন। তিনি রাজেশ্বরী গায়েকওয়াড়। অবশ্য শুরুটা করেছিলেন ভারতের দুই পেসার শিখা পাণ্ডে এবং ঝুলন গোস্বামী।

দশ পেরোনোর আগেই কিউয়িদের দুই উইকেট তুলে নেন এই দুই পেসার। তার পর আসরে নামেন স্পিনাররা। পাকিস্তান ম্যাচে সেরা হওয়া একতা বিস্তকে বসিয়ে গায়েকওয়াড়কে নামানো হয়েছিল। তিনিই রানি। বিপক্ষের পাঁচটা উইকেট তুলে নেন তিনি। দু’টি উইকেট নেন দীপ্তি শর্মা এবং একটি নেন পুনম যাদব। একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোরে শেষ হয়ে গেল নিউজিল্যান্ড।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here