শামির শাসনের পর বিরাটের রাজ, হোল্ডারদের হারিয়ে সিরিজ ভারতের

0
616

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০৫-৯ ( শাই হোপ ৫১, কাইল হোপ ৪৬, শামি ৪-৪৮)

ভারত ২০৬-২ (বিরাট ১১১ অপরাজিত, কার্তিক ৫০ অপরাজিত, জোসেফ ১-৩৯)

কিংস্টন: মুখে স্বীকার না করলেও অনিল কুম্বলে এপিসোডে তিনি নিজেও বেশ চাপে পড়েছিলেন, তা বলাই যায়। সেই চাপের মধ্যে বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ভারতের গত এক মাসের তিনটে একদিনের ম্যাচে হেরে যাওয়া যেখানে ভারত আইসিসি তালিকায় সাত নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কা, আট নম্বরে থাকা পাকিস্তান এবং ন’নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হেরেছে। চাপ ছিল পঞ্চম একদিনের ম্যাচটি হেরে গেলে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের দ্বারা তীব্র সমালোচিত হওয়ার। মাত্র একটা ইনিংসে সব চাপ দূরে সরিয়ে নতুন ভাবে নিজেকে প্রকাশ করলেন কোহলি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় থেকেই ফর্মে ফিরেছিলেন কিন্তু কিছুতেই শতরান আসছিল না তাঁর ব্যাটে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল এবং সর্বোশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ। শতরানের দোরগোড়ায় এসেও অপরাজিত থাকতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই বাধা পেরিয়ে শতরানের গণ্ডি টপকালেন তিনি।

বারোটা চার এবং দু’টি ছয়ে সাজানো একটি ইনিংসের মাধ্যমে নিজের কেরিয়ারের ২৮ নম্বর শতরানটি করেন বিরাট। তাঁকে অপর প্রান্তে যোগ্য সহায়তা দিয়ে যান দীনেশ কার্তিক। সাড়ে তিন বছর পর ভারতের জার্সি গায়ে নেমে তাঁর অবদান একটি অপরাজিত অর্ধশতরান। দীনেশ-বিরাটের অপরাজিত ১২২ রানের জুটির সৌজন্যে তেরো ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।

এর আগে শাসন করে গিয়েছেন ভারতের হয়ে আরও প্রত্যাবর্তনকারী মহম্মদ শামি। টসে জিতে ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বেশ ভালোই শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম উইকেটের জুটিতে ৩৯ ওঠার পর, তৃতীয় উইকেটে উঠেছিল আরও ৩৭। এর পরেই দাপট দেখানো শুরু করেন ভারতের বোলাররা। বিশেষ করে শামি।

ক্রিজে জমে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ককে সরানোর পর, সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী শাই হোপকেও তুলে নেন তিনি। তাঁর বলের শিকার হন নার্স এবং বিশুও। ভালো বল করে তিনটে উইকেট নেন উমেশ যাদব। অন্য দিকে কোনো উইকেট না পেলেও নিজেদের মধ্যে কুড়ি ওভারে মাত্র ৬৩ রান দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতিটাকেই আটকে দিয়েছিলেন ভারতের দুই স্পিনার কুলদীপ এবং জাদেজা। ভালো ব্যাটিং পিচে ২০৫টা কখনোই ভালো স্কোর ছিল না এবং কোহলিরা যে ভাবে অবলীলায় জিতলেন তাতে মনে হয়, তিনশো তুললেও নিরাপদে থাকত না ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই দুর্ধর্ষ ইনিংসের পর ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নিজের কথা না বলে বাকি প্লেয়ারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন অধিনায়ক। তিনি বলেন, “ম্যাচটা জেতা একমাত্র লক্ষ্য ছিল। দলগত সাফল্যে এই সিরিজ জেতা সম্ভব হয়েছে। রাহানের একদিনের ম্যাচে প্রত্যাবর্তন, টপ অর্ডারে শিখরের পারফর্ম্যান্স, কুলদীপের দুর্ধর্ষ স্পেল, অসাধারণ কিছু মুহূর্ত দিয়েছে এই সিরিজ। দলের পারফর্ম্যান্সে আমি খুশি।” অনেকদিন পর প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে শামি যে ভাবে বল করলেন তার আলাদা ভাবে উল্লেখ করেন বিরাট। সিরিজ-সেরা নির্বাচিত হন রাহানে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here