লন্ডনে লঙ্কাকাণ্ড, আকস্মিক হারে প্রশ্নে ভারতের সেমিফাইনাল-ভাগ্য

0
472

ভারত ৩২১-৬ (ধাওয়ান ১২৫, রোহিত ৭৫, মালিঙ্গা ২-৭০

শ্রীলঙ্কা ৩২২-৩ (মেন্ডিস ৮৯, গুনতিলক ৭৯, ভুবনেশ্বর ১-৫৪)

লন্ডন: লালমোহনবাবু থাকলে নিশ্চয়ই এই ঘটনাকে বলতেন লন্ডনে লঙ্কাকাণ্ড। শ্রীলঙ্কার কাছে আকস্মিক হারে প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল ভারতের সেমিফাইনাল-ভাগ্য। হারতে হারতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শ্রীলঙ্কা এ রকম ভাবে ঘুরে দাঁড়াবে তা ভাবনাতেও আসেনি টিম কোহলির। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ব্যাটে দাপট দেখিয়েও শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ভারত।

স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া, পিচে সবুজ আভা, সব মিলিয়ে বোলিং-এর আদর্শ পরিবেশ। এই আবহেই টসে জিতে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। এমনিতেই এই শ্রীলঙ্কার আগের সেই দাপট নেই। পরপর কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা অবসরে যাওয়ায়, চোখে পড়ার মতো পারফরমেন্সও দিতে পারছে না দলটা। দলের এমনই করুণ দশা যে হাল ধরার জন্য একশো শতাংশ ফিট না হওয়া সত্ত্বেও ফিরিয়ে আনতে হয়েছে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। কিন্তু তিনি থাকলেও, দলের বোলিং-এ কোনো প্রভাব পড়ল না। তবে ব্যাটসম্যান ম্যাথিউজ ম্যাচে প্রভাব ফেলে গেলেন।

লসিথ মালিঙ্গার সেই ঝাঁজ এখন উধাও, বাকি বোলারদের অবস্থাও খারাপ। এই সুযোগ দু’হাতে লুফে নিলেন ‘হিট ম্যান’ রোহিত এবং ‘গব্বর’ ধাওয়ান। দু’জনে মিলে বিপক্ষের বোলারদের রীতিমতো শাসন করে গেলেন। কিন্তু শতরানের কাছাকাছি এসেও তা ফসকালেন রোহিত। রোহিত ফিরতে পর পর আরও দু’টি উইকেট গেল। কোনো রান না করেই ফিরলেন বিরাট। শেষ কবে শূন্য করে বিরাট ফিরেছিলেন তার জন্য গণনায় বসতে হবে। রান পাননি আগের ম্যাচের সেরার পুরষ্কার পাওয়া যুবরাজও। এখানেই সিনে এলেন মহেন্দ্রে ‘বাহুবলী’।

চার-ছয় মারাই শুধু নয়, খুচরো রান নিতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ইতিমধ্যে শতরান করে নিজের গিয়ার পালটে ফেলেছেন ধাওয়ানও। বিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে তিনি একটু বেশিই পছন্দ করেন। এ দিন অবশ্য ব্যাট চলেনি পাণ্ড্যর। তবে ৬৩ করে ধোনি ফিরতে শেষ ওভারে তাঁর দায়িত্ব পালন করে দেন কেদার যাদব। ১৩ বলে ২৫-এ অপরাজিত থাকেন তিনি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে একটি উইকেট হারালেও, তৃতীয় উইকেটের পার্টনারশিপে ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে শ্রীলঙ্কা। গুণতিলক এবং মেন্ডিসের ব্যাটের সামনে ভারতীয় বোলারদের থরহরিকম্প অবস্থা। দু’জনের পার্টনারশিপে ম্যাচ মোটামুটি ভারতের হাত থেকে বেরিয়ে যায়।

পঞ্ছম উইকেটে আরও একটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ তৈরি হয় অধিনায়ক এবং কুশল পেরেরার মধ্যে, আর তাতেই ম্যাচ হাত থেকে বেরিয়ে যায় ভারতের। চোটের জন্য কুশল অবসৃত হলেও, তাতে কোনো প্রভাব পড়েনি শ্রীলঙ্কার। উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলে শ্রীলঙ্কা।

এই ম্যাচে ভারতের আকস্মিক হারের পর জমজমাট হয়ে গেল গ্রুপ বি থেকে সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াই। এই গ্রুপের পরের দু’টি ম্যাচই কোয়ার্টার ফাইনাল হয়ে গেল। ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে যে জিতবে সে সেমিফাইনালে, অন্য দিকে শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান ম্যাচে যে জিতবে, শেষ চার তাঁর।

তবে একটা কথা বলতেই হয়, শ্রীলঙ্কা যে দাপটের সঙ্গে জিতল, তাতে শ্রীলঙ্কাকে এই টুর্নামেন্টের কালো ঘোড়া আখ্যা দিলে এতটুকু বাড়িয়ে বলা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here