ওয়েবডেস্ক: আইপিএল এলিমিনেটরে জয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের। বুধবার ঘরের মাঠে রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে আগামী শুক্রবার ঘরের মাঠে ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হতে চলেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। আইপিএল-এ যে কোনো খেলা যে কোনো সময় ঘুরে যেতে পারে, সেই প্রাচীন অরণ্য প্রবাদ এদিন ফের প্রমাণিত হল।

এ দিন টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন রাজস্থান অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুতেই ধাক্কা খায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই আউট নাইটদের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় সুনীল নারিন। গৌতমের বলে আউট হন তিনি। প্রথম উইকেটের রেশ কাটতে না কাটতে ফের উইকেট। উত্থাপা ফের ব্যর্থ হলেন। দ্বিতীয় উইকেট গৌতমের। ক্রমশ চাপে পরে যায় তারা। বেশি সময় লাগেনি তৃতীয় উইকেট যেতে। নতুন আসা নীতীশ রানা সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলেন। তবে চতুর্থ উইকেটে লিনকে সঙ্গী করে এগোতে থাকেন অধিনায়ক কার্তিক। কেন কার্তিক এই মরশুমে লিগে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ফের প্রমাণ করলেন তিনি। ধীরে ধীরে এগোতে থাকে এই জুটি। অবশ্য অষ্টম ওভারে ফের উইকেট হারায় কলকাতা। আউট হন লিন।

চলতি লিগে কেকেআরের তরুণ খেলোয়াড়রা লিগের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। নতুন আসা শুভবন গিলকে সঙ্গী করে এগোতে থাকেন কার্তিক। পঞ্চম উইকেটে পঞ্চাশ রানের পার্টনারশিপও করেন তারা। গিল আউট হয়ে গেলেও, নিজের ব্যাটিং দক্ষতার প্রমাণ আরও একবার দিলেন কার্তিক।। তবে যে দলে আন্দ্রে রাসেলের মত খেলোয়াড় থাকে তখন যে কোনো সময় খেলা ঘুরে যেতে পারে। যা ইডেনের দর্শকরা অনেকদিন মনে রাখবে। কার্তিক অর্ধশতক করে আউট হয়ে গেলেও, রাসেল ঝড় অব্যাহত থাকে। ২৫ বলে দুর্ধর্ষ অপরাজিত ৪৯ করে গেলেন তিনি। ফলে ১৬৯/৭ করে ইনিংস শেষ করে কলকাতা।

বড়ো টার্গেটকে মাথায় রেখে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক শুরু করে রাজস্থান। সৌজন্যে অধিনায়ক রাহানে এবং ত্রিপাঠি। ক্রমাগত রান তুলতে থাকে এই জুটি। ষষ্ঠ ওভারে ত্রিপাঠিকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন নাইটদের অন্যতম চর্চিত স্পিনার পীযুষ চাওলা। উইকেট হারিয়েও রানের গতি কমেনি তাদের। নতুন আসা স্যামসনকে নিয়ে ভালোই এগোতে থাকেন রাহানে। একসময় মনে হচ্ছিল এই জুটির কাছে ম্যাচ জেতা শুধু সময়ের অপেক্ষা। পঞ্চাশ রানের পার্টনারশিপ এই জুটির। তবে ক্রিকেট যে শেষ বলের লড়াই তা এদিন নিশ্চয়ই বুঝলেন রাজস্থানের ক্রিকেটাররা। পঞ্চদশ ওভারে এই জুটি ভেঙে দেন নাইটদের তরুণ তুর্কি কুলদীপ যাদব। আউট হন রাহানে। রাহানে ফিরে গেলেও অর্ধশতক করে দলকে এগানোর চেষ্টা করেন স্যামসন। তবে চাওলার বলে শেষমেশ ফিরে যান তিনি। ফলে ম্যাচে প্রবল ভাবে ফিরে আসে কলকাতা। কেকেআরের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে প্রায় হাল ছেড়ে দেয় তারা। ২৫ রানে জয় পেয়ে, আগামী ম্যাচের আগে মানসিক ভাবে জোর পেয়ে গেল কলকাতা। ম্যাচের সেরা আন্দ্রে রাসেল।

তবে সেরা যেই হোন, ৪ উইকেটে ৫১ থেকে কেকেআরের ১৬৯-এ পৌঁছে যাওয়া আর ১ উইকেটে ১০৮ থেকে রাজস্থানে ভেঙে পড়া- দুটোই যেন অলৌকিক।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here