madhav deul, hajo.
মাধব দেউল, হাজো। নিজস্ব চিত্র।

ওয়েবডেস্ক: জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে হাজোর ‘মাধব দেউল’ সেজে উঠেছে। রাসযাত্রা, দোলযাত্রা মতো জন্মাষ্টমীও এখানে একটা বড়ো উৎসব। খুব ধুমধামের সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়।

গুয়াহাটি থেকে মাত্র ৩২ কিমি দূরে ব্রহ্মপুত্রের পারে কামরূপ জেলার হাজো টাউন। একাধারে  হিন্দু, বৌদ্ধ, বৈষ্ণব, ইসলাম ধর্মের তীর্থস্থান।

যদিও অসম পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে থাকা সমতল, তবু যে হেতু এর দক্ষিণ দিকটি দাক্ষিণাত্যের মালভূমির অংশবিশেষ, তাই অসমের যত্রতত্র সমভূমির ফাঁকে ফাঁকে পাহাড়, টিলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সে রকমই এক পাহাড় ‘মণিকূট’-এর ওপর হাজোর প্রধান তীর্থস্থল ‘হয়গ্রীব মাধবমন্দির’।

কথিত আছে, একবার মধু আর কৈটভ নামের দুই অসুর ব্রহ্মার কাছ থেকে বেদ চুরি করে পালায়। ব্রহ্মা উপায় না পেয়ে বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন। বিষ্ণু তখন ‘হয়গ্রীব’ তথা ‘অর্ধেক ঘোড়া, অর্ধেক মানুষ’ রূপ ধরে অসুরদের পিছনে ধাওয়া করে রসাতল পর্যন্ত এগিয়ে বেদ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তার পর উত্তরপূর্বে (হাজোয়) এসে ওই অবতারেই ঘুমিয়ে পড়েন। সেই ফাঁকে অসুররা ফেরত আসে এবং বিষ্ণুকে আক্রমণ করে। এই স্থানে দু’পক্ষের প্রবল যুদ্ধ হয় এবং অসুররা পরাজিত হয়। এই মন্দিরের মূল দেবতাই বিষ্ণুর অবতার ‘হয়গ্রীব’।

আর সেই মূল মন্দিরের বাইরেই রয়েছে একটা ছোটো মন্দির। সেই মন্দিরকেই অসমিয়া ভাষায় বলা হয় ‘মাধব দেউল’। এখানে কৃষ্ণের পিতলের বিগ্রহ পূজিত হয়। প্রতি বছরের মতো এ বারেও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বৈষ্ণব ভক্তরা এখানে আসতে শুরু করেছেন। জমে উঠেছে এই তীর্থস্থল।

 

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন