birth of krishna
ছবিতে শ্রী কৃষ্ণের জন্ম।

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: সম্প্রতি এক‌টি মাসিক পত্রিকায় জন্মাষ্টমী সংক্রান্ত নিবন্ধে জ্যোতির্বিদ নমিতা বিশ্বাস লিখেছেন “একটি মতে শ্রীকৃষ্ণ হলেন লৌকিক সৌর দেবতা। উত্তর কালে বৈদিক আদিত্য বিষ্ণুর সঙ্গে এক হয়ে গেছেন। আবার অপর মতে তিনি ছিলেন অনার্য গোষ্ঠীর বিশেষ দেবতা। কালক্রমে ব্রাহ্মণ্যধর্মের সাথে মিশে গেছেন।”

সেই সূত্র ধরেই উঠছে প্রশ্ন, তবে কি আদি জনজাতিদের জন্ম পালনের পৃথক কোনো আচার ছিল বা আছে! আদি জনজাতি কুড়মি সমাজের ‘নত্তা’ মতান্তরে নক্তা হল এমনই একটি আদি লোকসংস্কৃতি। জন্মগ্রহণের ন’ দিনের মাথায় তা পালন করা হয়। ছ্যুইত্ কাটান বা পরিশুদ্ধতা পালন করা হয় পরিবার, জ্ঞাতির সবার নখ, চুল, দাড়ি কেটে। প্রসূতি মা ও সন্তানকে  ৮ দিন পর, ওই দিন স্নান করিয়ে নতুন বস্ত্র দেওয়া হয়। জন্ম বিষয়ক লোকসংস্কৃতি বলতে এটাই। এই অনুষ্ঠানে গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনেরা ভোজে মিলিত হয়।পরে জন্মদিন পালিত হয় না। অনুরূপ ভাবে জন্মাষ্টমী পালনের নিয়মে দেখা যাচ্ছে, গোপালকে নারকেলের খোলার থেকে বের করে, রাত ১২টায় দুধ, ঘি, মধু ও গঙ্গাজল (পঞ্চামৃত) দিয়ে স্নান করানো হয়। খাওয়াদাওয়াও এখানে হয়, আবার নতুন কাপড়ও পরানো হয়।

কারও কারও মতে, আচার একই, অনুকরণে রূপ বদলেছে মাত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাব্য, কাব্য আর ইতিহাসকে এক করে দেখলে হবে না। নৃতত্ত্ব গবেষণার বিচারের দিক বিচার করলে কৃষ্ণের শারীরিক গঠন কালো, পরনে গামছা বা ভোগা, কৃষক গোয়ালা পরিবারে বেড়ে ওঠা। যা শিষ্ট আর্য সমাজে অমিল। তা ছাড়া বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’কে এই সমাজের মানুষ ঝুমুর গান হিসেবে ব্যবহার করেছে চিরকাল, এমনই দাবি করেছেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ড. শান্তি সিংহ।

এ ব্যাপারে মানববিজ্ঞানী তথা নৃতত্ত্ববিদ ড.পশুপতিপ্রসাদ মাহাতো জানান, “আমাদের সমাজে নত্তা পালনের আচার এখনও আছে। আর্যরা এ দেশে ঢুকে এই সংস্কৃতিকে কবজা করে আদি লোকসমাজে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য কৃষ্ণকে সামনে রেখে এর প্রচলন করেছে।”

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন