suicide

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ‘দেনমোহর’ হয়ে গিয়েছিল। এ বার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য দিন গোনার পালা। স্বামী, নতুন জীবন নিয়ে স্বপ্ন বুনছিল সে। তবে ‘কবুল’ বলার আগেই নিথর হয়ে হয়ে গেল বছর একুশের তরুণী। শ্বশুরবাড়ি নয়, তার নিথর দেহ এল হাসপাতাল মর্গে।

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা জয়নাল মহম্মদের মেয়ে জরিনা খাতুন। বছর একুশের মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয় মালবাজারের বাসিন্দা পেশায় কাঠমিস্ত্রি আজিদ হুসেনের এর সাথে। পাত্রপক্ষ দেড় লক্ষ টাকা পণ দাবি করে।

গত মঙ্গলবার নিয়ম অনুযায়ী পাত্রীর বাড়িতে ‘দেনমোহর’ অনুষ্ঠান হয়। সেই সময় তিরিশ হাজার টাকা দেওয়া হয় পাত্রপক্ষকে। বাকি এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা পরে দেওয়া হবে কথা দেওয়া হয়। কিন্তু পাত্র এবং পাত্রের মা পণের টাকা চেয়ে চাপ দিচ্ছিল। না হলে বিয়ে ভেঙে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল, জানিয়েছেন তরুণীর বাবা জয়নাল মহম্মদ।

zarina on the day of denmohor
দেনমোহরের দিন জারিনা।

এতেই শেষ নয়, বিয়ের পর কন্যাসন্তান জন্ম হলে ‘তালাক’ দেওয়ার আগাম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল পাত্র। তরুণীর জামাইবাবু শাজাহান আলি জানিয়েছেন, তাঁর নিজের দু’টি মেয়ে রয়েছে, যারা তাঁর প্রাণের অধিক। কিন্তু বাড়ির হবু ছোটো জামাইয়ের মুখে এমন কথা শুনে অপমানিত বোধ করেছিলেন তিনি। এ সব শুনে ভেঙে পড়েছিল তরুণী শালীও, অভিযোগ শাজাহানের।

সোমবার রাতে পাত্র ফের হবু বউকে ফোন করে। মঙ্গলবার সকালে কাজে বের হওয়ার সময় বাড়ির রান্নাঘরে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান বাবা জয়নাল মহম্মদ। তাঁর চিৎকারে সকলে ঘুম ভেঙে ছুটে আসেন। যদিও ততক্ষণে সব শেষ। রাজগঞ্জ থানার পুলিশ তার নিথর দেহ উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তরুণীর বাবার অভিযোগ, রাতে ফোন করে পণের টাকা চেয়ে অপমান করাতেই মেয়ে আত্মহত্যার চরম পথ বেছে নিয়েছে।

ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে নাগরিক সমাজ। জলপাইগুড়ির অন্যতম শিক্ষাবিদ এবং একটি কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ আবদুল জানিয়েছেন, এক দিকে পণ চেয়ে চাপ এবং অন্য দিকে বিয়ের আগেই কন্যাসন্তানের জন্ম নিয়ে তুঘলকি হুঁশিয়ারি, পাত্রপক্ষের এমন আচরণ বর্বরোচিত এবং নিন্দনীয়। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তরুণীর বাবা জয়নাল মহম্মদ জানিয়েছেন, রাজগঞ্জ থানায় পাত্র এবং পাত্রের মায়ের নামে অভিযোগ দায়ের করবেন তিনি। মেয়ে ফিরবে না, কিন্তু যাদের জন্য সব স্বপ্ন ছেড়ে অকালে মেয়ে চলে গেল, তাদের শাস্তি না হলে আজীবন নিজেকেই দায়ী মনে হবে, ভেজা চোখে জানিয়েছেন অভাবী পিতা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here