injured student taken to hospital

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করার সময় কেঁপে উঠল স্কুল। সৃষ্টি হল আতঙ্ক, পড়ে গেল হুড়োহুড়ি। আহত হল ৬৪ জন ছাত্রী। এই ঘটনা কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ির।

আহতদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এরা জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৩৪ জন ভর্তি রয়েছে হলদিবাড়ি হাসপাতালে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগ উঠছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

demonstration at haldibari ps
হলদিবাড়ি থানায় বিক্ষোভ।

গত বুধবার হলদিবাড়ি টাউন ক্লাবের মাঠ থেকে উদ্ধার হয়েছিল একটি তাজা গ্রেনেড। সেটি কোথা থেকে কী ভাবে এল, হলদিবাড়ি থানার পুলিশ তার সুরাহা এখনও করতে পারেনি। এ দিকে সোমবার সেই গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করতে আসেন অসমের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত জওয়ানরা। থানার পাশে একটি খোলা জায়গায় সেটি নিষ্ক্রিয় করতে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশেই হলদিবাড়ি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

বেলা ১১:৫৫ মিনিট। দ্বাদশ এবং দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষার পাশাপাশি ওই স্কুলে চলছিল নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাও। সেই সময় বিকট শব্দে কেঁপে উঠে স্কুল-সহ গোটা এলাকা। ভয় পেয়ে অনেক ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যায়। স্কুলের দোতলা থেকে নামতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়ে চোট পায় ছাত্রীরা, অনেকে পদপিষ্ট হয়েও আহত হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে একটা গোলমেলে পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়।

priyanka mandal describing the incident
ঘটনার বিবরণ দিচ্ছে প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল।

আহত ছাত্রীদের প্রথমে হলদিবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ১৬ জনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। জ্ঞান ফিরে আসার পর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রিয়াঙ্কা মণ্ডল নামে এক ছাত্রী জানিয়েছে, বিকট আওয়াজে গোটা স্কুল থরথর করে কেঁপে উঠেছিল, তার পরেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়।

এর পরেই অভিভাবকরা জানতে পারেন, স্কুলেড় পাশেই গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছিল। সেই সময় সেটি ফাটার বিকট আওয়াজেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর পরেই ক্ষুদ্ধ অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ক্ষুদ্ধ স্কুলের শিক্ষকরাও। ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা প্রশ্ন তুলেছেন, স্কুলের পাশে গ্রেনেড নিস্ক্রিয় করার আগে কেন তাদের জানানো হল না ?

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, জনবহুল এলাকায় কেন এই রকম একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করল পুলিশ? কিছুটা দূরে তিস্তা নদীর বিশাল ফাঁকা চর এলাকা ছিল। সেখানেই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা যেত। সবিতা বর্মণ নামে এক অভিভাবক জানিয়েছেন, পাশে আরও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এ দিন সেটি বন্ধ ছিল। সেটি খোলা থাকলে আরও বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

উদ্ধার হওয়ার পর এত দিন কেন তাজা গ্রেনেডটি নিষ্ক্রিয় না করে ঝুঁকি নিয়ে থানায় রেখে দেওয়া হয়েছিল তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। থানার আইসি প্রবীন প্রধান সেই সময় থানায় ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে কেন এই গ্রেনেড নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও এত প্রশ্ন ওঠা সত্ত্বেও  মুখে কুলুপ এঁটেছেন কোচবিহারের জেলা পুলিশ সুপার অনুপ জয়সোয়াল। তবে সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকর্তারা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে আইসি প্রবীণ প্রধান এবং থানার দায়িত্বে থাকা অফিসারের ভূমিকা। ঘটনায় ক্ষুদ্ধ মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ রায় প্রধান জানিয়েছেন, তিনি সমস্ত ঘটনা নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন।

ঘটনার সময় হলদিবাড়িতে নিজের বাড়িতে বসেই প্রায় তিনশো মিটার দূর থেকে বিকট আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। এর পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। হাসপাতালেও যান আহত ছাত্রীদের দেখতে। বিধায়ক জানিয়েছেন, ছাত্রীদের সমস্ত রকম চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here