intercaste marriage

ওয়েবডেস্ক: যে রাজ্যে দুই ভিন্ন জাতের পুরুষ এবং মহিলার বিয়ে হলে ‘অনর কিলিং’ বা পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে খুনের শিকার হতে হয়, সেই রাজস্থানেই একটা অন্য ধরনের বিয়ে হয়ে গেল বুধবার। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন বছর আঠারোর যুবতী বাঘেল এবং বছর ২৪-এর যুবক সচিন।

কিন্তু খুব সহজে দু’জনের বিয়ে হয়ে গেল এবং পরিবারের সদস্যরা মেনে নিলেন, এটা ভাবলে বিশাল ভুল হবে। বরং এই বিয়ের পেছনে রয়েছে একটি গল্প। কী সেই গল্প? একবার দেখে নেওয়া যাক।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তফশিলি জাতি শ্রেণিভুক্ত বছর একুশের যুবক সচিন কুমারের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন ওবিসি শ্রেণিভুক্ত বছর পনেরোর যুবতী অনু বাঘেল। চুপ করে বসে ছিল না অনুর পরিবার। তারা সচিনের বিরুদ্ধে থানায় তাদের মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে।

ওই বছরের মে মাসে পুলিশের জালে ধরা পড়ে নববিবাহিতা এই দম্পতি। সচিনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। অনুকে পাঠানো হয় সরকারি একটি হোমে, কারণ অনুকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে তার পরিবার। সেখানে দেখা যায় অনু অন্তঃসত্ত্বা। বেশ কয়েক মাস পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় অনু।

অন্য দিকে দেড় বছর জেল খাটার পর গত বছর জামিনে মুক্ত হয় সচিন। এ বছর জুলাইয়ে সচিনের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে মামলাটিকে বাতিল করে দেওয়া হয়।

এ মাসের ১৬ তারিখ আঠারো বছরে পদার্পণ করে অনু এবং তাকে রাজস্থানের ঢোলপুরের শিশু সুরক্ষা কমিটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশু সুরক্ষা কমিটির প্রধান বিজেন্দ্র পারমার বলেন, “আমরা অনুকে জিজ্ঞেস করি সে এখন কী করতে চায়। ও বলে সচিন যদি চায় তা হলে সে তাকে বিয়ে করতে রাজি। আমরা সচিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। তারা অনুকে এবং তার সন্তানকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়।”

বুধবার আইনসম্মত ভাবে অনু এবং সচিনের বিয়ে হল। বাবা-মায়ের বিয়েতে উপস্থিত ছিল দু’বছরের ওই কন্যাসন্তানও। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল ভরতপুর এবং ঢোলপুরের শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা, যারা না থাকলে অনু আর সচিনের চার হাত এক হতে পারত না।

তবে অনুর পরিবারের সদস্যরা এই বিয়েতে হাজির ছিল না। কেন নিচু জাতের ছেলেকে বিয়ে করছে অনু, এ ব্যাপারটা এখনও হজম করে উঠতে পারেনি অনুর পরিবার। তবে পুত্রবধূ এবং নাতনিকে পেয়ে বেজায় খুশি সচিনের বাবা লক্ষ্মণ সিংহ। অনুর বয়ানেই সচিন জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে সে কথাও বলেন লক্ষ্মণ। তাঁর কথায়, “আমরা খুব ভাগ্যবান যে এ রকম পুত্রবধুর সঙ্গে একটা ফুটফুটে নাতনিও পেয়েছি।”

নিজের জাতের কাছে ‘লজ্জা’ এই অভিযোগে শয়ে শয়ে দম্পতিকে তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে খুন হতে হয়। এ নাকি পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে খুন! সরকারি পরিসংখ্যান বলছে ২০১৪ সালে যেখানে এই ধরনের খুনের সংখ্যা ২৮ ছিল, তার পরের বছরেই তা বেড়ে হয় ২৫১। এই আবহের মধ্যেও কোনো রকম অঘটনের শিকার না হয়ে দুই ভালোবাসার ব্যক্তি যে তাদের জীবনসঙ্গীকে ফিরে পেয়েছে, এই ঘটনা অত্যন্ত বিরল একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেই থেকে যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here