ahed tamini

ওয়েবডেস্ক: সাড়ে পাঁচ বছর আগের কথা। প্যালেস্তাইনের ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে নিজের বাড়ির কাছে ইজরায়েলি সেনার অবৈধ দখলদারির প্রতিবাদ করেছিল সে। ইজরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল তার পনেরো বছরের ভাই। তাই ইজরায়েলের সেনার বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেনি এই কিশোরী। সেনার এক জওয়ানকে সটান ঘুষি মেরেছিল সে। এর পরেই সেই কিশোরীকে গ্রেফতার করে ইজরায়েলি সেনা। হোক না বারো বছর বয়স, তাকে সাবালিকা হিসেবেই দেখেছে ইজরায়েল। শেষ পর্যন্ত গত ডিসেম্বরের এক রাতে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর জেলেই সময় কাটিয়েছে সে। কিছু দিন আগেই ১৭ বছরে পদার্পণ করেছে সে।

এ হেন আহেদ তামিনি, ইজরায়েলের কাছে খলনায়িকা হতে পারে, কিন্তু প্যালেস্তাইনের কাছে সে এক স্বাধীনতা সংগ্রামী। বিশ্বের কাছেও সে এক ‘আইকন’। ইজরায়েল যে তাকে সহ্য করতে পারে না, তার কারণ সে তাদের সেনা জওয়ানকে অপমান করেছে। তাই তার শাস্তি স্বরূপ ইজরায়েলের আদালতেই তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তার বিরুদ্ধে যে ধারা এনেছে ইজরায়েল তাতে একাধিক বছরের জেল হতে পারে আহেদের।

তবে শুধু আহেদই নয়, এই মুহূর্তে অন্তত তিনশো প্যালেস্তাইন নাবালক-নাবালিকা ইজরায়েলের জেলে রয়েছে। সবার বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এনেছে ইজরায়েল। এত অল্প বয়সে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তারা কী অপরাধমূলক কাজ করবে সেটা সম্ভবত ইজরায়েলই জানে।

মেয়ের এই কীর্তিতে আদৌ চিন্তিত নন তার বাবা, বরং তিনি গর্বিত। গর্ব করেই তিনি বলেন, তাঁর মেয়েকে কিছু দিন হয়তো জেলে রাখতে পারে ইজরায়েল। যে অভিযোগে আহেদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে, একই অভিযোগ রয়েছে আহেদের মায়ের বিরুদ্ধেই। মেয়ের সঙ্গে একই জেলে রয়েছে মা।

বাবা আশাবাদী, আহেদের বেশি সাজা দিতে পারবে না ইজরায়েল। কারণ ইতিমধ্যে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে ১৭ লক্ষ মানুষ আহেদকে সমর্থন জানিয়েছেন। বাবার মতে, এটাই হয়তো প্যালেস্তাইনের ওপরে ইজরায়েলের দখলদারির শেষের শুরু।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন