three arrested youths in connection with murder in tamilnadu
ভিন রাজ্যে খুনের ঘটনায় ধৃত তিন যুবক।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: এক দিকে খুনি এবং লুঠেরা গ্যাং অন্য দিকে আন্তঃরাজ্য মোটরবাইক পাচারচক্রের গ্যাং জলপাইগুড়ি পুলিশের জালে। এই দুই ঘটনা শোরগোল ফেলেছে জেলা জুড়ে।

জলপাইগুড়ির টিকিয়াপাড়ার তিন যুবক কাজের খোঁজে গিয়েছিল তামিলনাড়ু। সেখানে কোয়েম্বত্তুর জেলার আন্নুর এলাকায় একটি বাড়িতে টাইলস বসানোর কাজ পায় তারা। গত ২৬ জানুয়ারি খুন হন সেই বাড়ির মালকিন রাজামণি। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হন বাড়ির মালিক মাইলি স্বামী। লুঠ হয় নগদ এক লক্ষ টাকা এবং প্রচুর সোনার গয়না। অভিযোগ ওঠে, কাজে যাওয়া জলপাইগুড়ির ওই তিন যুবক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক ছিল। আন্নুর পুলিশের দাবি, ইলেকট্রিক শক দিয়ে প্রথমে গৃহকর্তা মাইলি স্বামীকে অজ্ঞান করা হয়। তার পর গৃহকর্ত্রীকে খুন করে টাকা এবং গয়না নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা। জলপাইগুড়ি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্নুুর পুুুুলিশ। কারণ, তাদের সন্দেহ ছিল ওই তিন যুবক জলপাইগুড়িতে ফিরে এসেছে।

ঘটনা জানার পর সূত্র মারফত খোঁজখবর শুরু করেন এখানকার কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার। জানতে পারেন, ওই তিন যুবক টিকিয়াপাড়ায় নিজেদের বাড়িতেই রয়েছে। অপরাধীর সন্ধান পেয়ে আন্নুর থানা থেকে পুলিশের একটি বিশেষ দল বুধবার রাতে জলপাইগুড়ি পৌঁছোয়। তাদের সঙ্গে নিয়েই জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অতর্কিত অভিযানে পালানোর সুযোগ পায়নি অভিযুক্তরা। টিকিয়াপাড়ার বাড়ি থেকেই অভিযুক্ত অজয় রায়, পিন্টু মল্লিক, সম্রাট সাহাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাড়ে সাঁইত্রিশ হাজার টাকা এবং কয়েক ভরি সোনার গয়না উদ্ধার হয়েছে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের আন্নুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তাদের জলপাইগুড়ি আদালতে তুলে সাত দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নেয় আন্নুর পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের নিয়ে তামিলনাড়ুর উদ্দেশে রওনা হয় তারা। সেখানে কোয়েম্বত্তুর আদালতে তুলে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেবে তিন অভিযুক্তকে। তাদের সঙ্গে স্থানীয় কেউ যুক্ত আছে কি না ও বাকি টাকা এবং সোনার গয়না কোথায় তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। আন্নুর থানার এই কেসের তদন্তকারী অফিসার এস ভেঙ্কটেশ জানিয়েছেন, জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার সহযোগিতা না পেলে এই ঘটনার কিনারা করা সম্ভব ছিল না।

bhola roy and ratan roy of bike smuggling gang
মোটরবাইক পাচারচক্রের ধৃত দুই সদস্য ভোলা রায় এবং রতন রায়।

অন্য দিকে আন্তঃরাজ্য মোটরবাইক পাচারচক্রের হদিশ পেল জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ থানা। উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি চোরাই মোটরবাইক। গ্রেফতার হয়েছে দু’জন দাগী অপরাধী।

জলপাইগুড়ি এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে ক্রমাগত মোটরবাইক চুরির অভিযোগ আসছিল। দিন কয়েক আগে সূত্র মারফত এই দলটির হদিশ পান রাজগঞ্জ থানার ওসি তমাল দাস। সেইমতো ফাঁদ পেতে মোটরবাইক পাচারচক্রের অন্যতম পাণ্ডা ভোলা রায়কে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাতে আমবাড়ি এলাকায় তার গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় ১৮টি চোরাই বাইক। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেফতার করা হয় দলের আরেক পাণ্ডা রতন রায়কে। মোটরবাইক ছাড়াও ওই গোডাউন থেকে ২০টি বাইসাইকেলও উদ্ধার হয়েছে।

recovered motorbikes
উদ্ধার হওয়া মোটরবাইক।

পুলিশের দাবি, মোটরবাইকগুলি উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং অসমে পাচারের জন্য ওই গোডাউনে রাখা হয়েছিল। এই দলে আরও কারা জড়িত তা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে রাজগঞ্জ থানা। পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদের পুলিশ হেফজতে নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এদের আদালতে তুলে ১৪ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চাওয়া হয়। বিচারক ১৪ দিনের হেফাজতের নির্দেশ মঞ্জুর করেন। সাম্প্রতিক কালে একসঙ্গে এত চোরাই মোটরবাইক উদ্ধার হয়নি। এটি জলপাইগুড়ি পুলিশের বিরাট সাফল্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here