demonstration at RTTTI

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দু’ বছরের কোর্স ফি ৯৬ হাজার টাকা। অথচ শিক্ষার্থীদের কাছে চাওয়া হচ্ছে তিন বা চার লক্ষ টাকা। যাঁরা এই টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন না, তাঁদের মার্কশিট, সার্টিফিকেট আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। রবীন্দ্রনাথ টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জলপাইগুড়ির পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সদ্য স্থাপিত হয়েছে এই ইনস্টিটিউট। এনসিটিই এবং ডব্লিউবিবি অব পিএড অনুমোদন প্রাপ্ত এই বেসরকারি ইনস্টিটিউট ২০১৪ সাল থেকে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং কোর্স পড়ানো শুরু করে। অভিযোগ, প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী যাঁরা পাশ করে গিয়েছেন, বাড়তি টাকা না দেওয়ায় তাঁদের অনেকের মার্কশিট আটকে রাখা হয়েছে।

পূজা রায় নামে এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, কোর্স ফি’র বাইরে তাঁর কাছে দু’ লক্ষ টাকা বাড়তি দাবি করেন ইনস্টিটিউটের সম্পাদক অমর সাহা। চাপে পড়ে দেড় লক্ষ টাকা দিয়েওছেন পূজা। কিন্তু বাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা না দিতে পারায় তাঁকে মার্কশিট দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন প্রণব মণ্ডল, আসানুল হকের মতো শিক্ষার্থীরা।

তবে আগে অবৈধ ভাবে চাওয়া এই বাড়তি টাকা কেন দিতে রাজি হয়েছিলেন, তার উত্তরে শিক্ষার্থীরা জানান, সরকার নির্ধারিত ফিজ কত তা তাঁদের জানা ছিল না। কিছু শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই বাড়তি টাকা দিয়ে মার্কশিট পেয়ে গিয়েছেন বলেও তাঁদের দাবি। সৌরভ ঘোষ নামে এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ডোনেশনের নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে অথচ তার কোনো রসিদ দেওয়া হচ্ছে না।

পরীক্ষার পর ফল বের হলেও শিক্ষার্থীদের মার্কশিট সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। কারণ আগামী টেট পরীক্ষায় বসার জন্য চলতি মাসের ২৯ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে। কিন্তু মার্কশিট, সার্টিফিকেট হাতে না পেলে তাঁরা পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। বিপাকে পড়ে আজ সোমবার ইনস্টিটিউটের সম্পাদক অমর সাহাকে ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘেরাও, বিক্ষোভ চলে। শিক্ষার্থীরা পুলিশের দ্বারস্থও হন।

demonstration by students
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।

তাঁদের কাছে অভিযোগ পেয়ে ইনস্টিটিউটে আসেন কোতোয়ালির পুলিশ। তাঁরাও সম্পাদক অমর সাহার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তাঁদের কাছে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে যান তিনি। পালটা তিনি দাবি করেন, বাড়তি টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণ করুক শিক্ষার্থীরা। তবে মার্কশিট কেন আটকে রাখা হয়েছে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি অমরবাবু। এর পরেই আরও জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাত ৮টা নাগাদ থানায় নিয়ে আসা হয় অমর সাহাকে। ডেকে পাঠানো হয় শিক্ষার্থীদেরও।

তবে এই ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ডোনেশনের নামে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কী ভাবে ব্যবসা করে সেটাই আরও এক বার প্রকাশ্যে এল। ওই ইনস্টিটিউটে এক শিক্ষক নাম না প্রকাশ করার শর্তে এই আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন।তিনি জানিয়েছেন বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলি প্রায়শই ডোনেশনের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। চাপে পড়ে শিক্ষার্থীরা তা দিয়েও দেন। না হলে বিভিন্ন ভাবে তাঁদের হয়রান করা হয়। প্রশ্ন উঠছে সেখানেই, যাঁরা ভবিষ্যতে মানুষ গড়ার কারিগর তৈরি করবেন তাঁরা যদি অবৈধ ভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেন এবং সেই টাকা দিয়ে যাঁরা এই অনৈতিক কাজকে সমর্থন করেন, তাঁদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কী শিক্ষা পাবে?

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here