clemencia forero ucros

কোলোম্বিয়ার সাহিত্যিক লাউরা রেস্ত্রেপো কাসাবিয়ানকার সঙ্গে কলকাতা বইমেলায় এসেছেন তাঁর ছোটোবেলার বন্ধু সে দেশের রাষ্ট্রদূত ক্লেমেনসিয়া ফোরেরো উক্রস। বইমেলা ঘোরার ফাঁকে খবর অনলাইনের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রথম কলকাতায় আসা ক্লেমেনসিয়া।

এই প্রথম বার কলকাতায় এলেন, কেমন লাগছে?

খুব সুন্দর। আসার সময় ভাবতে পারিনি এতটা সহযোগিতা পাব তোমাদের তরফ থেকে। সকলের ব্যবহার খুবই ভালো লাগছে। ইচ্ছে রয়েছে ফিরে যাওয়ার আগে কলকাতার সুপরিচিত জায়গাগুলো লাউরার সাথে দেখে যাব।

দিল্লি থেকে এলেন কলকাতায়। কোনো বিশেষ পার্থক্য রয়েছে এই দুই শহরের মধ্যে?

শক্ত প্রশ্ন করলে। ছোটোবেলায় ভূগোল বইয়ে পড়েছিলাম যে ভারত হল এমন এক দেশ যেখানে রয়েছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, যেখানে সব ধরনের মানুষ একত্র হয় কর্মে-মর্মে, তারা বিভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসে। এমন একটা দেশে এসে আমার কখনোই মনে হয়নি যে এখানকার বিভিন্ন শহরের মানুষজন বিভিন্ন ভঙ্গির হবে। তবে একটা কথা বলি, কলকাতার আবহাওয়াটা দিল্লির চেয়ে বেশি সুন্দর।

কোলোম্বিয়া আর ভারতের মধ্যে কোনো বিশেষ মিল রয়েছে – শিল্পে, সাহিত্যে বা আচার-আচরণে?

কোলোম্বিয়া আর ভারতের মধ্যে সব চেয়ে বড়ো মিল হল, দু’টি দেশই গ্রীষ্মপ্রধান, যেখানে কাজে-কর্মে, পশু-প্রকৃতিতে বিপুল সাদৃশ্য। স্বাভাবিক ভাবেই এই দুই দেশের মধ্যে বহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য, এখানকার মানুষের কর্মতৎপরতা এবং সক্রিয়তা দেখার মতো। এরা কখনো থেমে থাকে না। সর্বক্ষণ কোনো না কোনো লক্ষ্যে অবিচল থাকে এদের মন।

কলকাতায় আসার মূল উদ্দেশ্য?

লাউরা আমার ছোটোবেলার বন্ধু। ওকে নিয়ে কলকাতা বইমেলায় এসেছি। দু’ দেশের পাঠকদের স্বার্থে কোলোম্বিয়া আর ভারতের সাহিত্যের মধ্যে কতটা সেতু বাঁধা যায়, সেটা যাচাই করাই এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য। কোন দেশের কোন বিষয়টা সম্পর্কে পাঠকরা বেশি আগ্রহ দেখাবেন বা কোন বিষয়টা নিয়ে দু’ দেশের পাঠক সহমত হবেন সেটা বুঝতেই এখানে আসা। আমি দিল্লিতে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। আমরা ভারতীয় পাঠকদের জন্য কোলোম্বিয়ার সাহিত্য বাংলা ও হিন্দি ভাষায় প্রকাশ করতে চাই। এবং খুব শীঘ্রই যাতে এটা করা যায় তার চেষ্টায় আছি।

দু’টি দেশকে কতটা কাছে আনা সম্ভব সাহিত্যের মাধ্যমে?

দু’টি দেশের মধ্যে সেতু বাঁধার সব চেয়ে বড়ো মাধ্যম হল সাহিত্য। এটা ভাষাগত সেতু যা ছোটো থেকে বড়ো, সকলকে আনন্দ দেয়, সকলের মধ্যে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ঘটায়। এ ছাড়াও আরও অনেক ভাবে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব, এর মধ্যে অন্যতম হল সংগীত। ভারতে এমন কেউ নেই যে শাকিরার নাম শোনেনি। শাকিরা তো কোলোম্বিয়ার মানুষ।

কোলোম্বিয়ার বইমেলা কেমন?

কোলোম্বিয়ায় বইমেলা হয় প্রতি বছর মে মাসে। বেশ বড়ো মেলা, তবে তোমাদের মতো এতটা বড়ো নয়।

কোলোম্বিয়া আর ভারতের মধ্যে যোগসূত্র গড়া কী ভাবে সম্ভব?

প্রথমত চাই একটা উদ্যোগ যা থেকে মানুষ বুঝবে কী ভাবে দু’ দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, সেই উদ্যোগকে কাজে রূপায়িত করার জন্য সক্রিয় হতে হবে। এবং সেই সক্রিয়তা শুধু বাণিজ্য ক্ষেত্রেই নয়, ভাষাগত সেতুবন্ধনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here