the dead old man

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ৭২ বছরের বৃদ্ধ ‘ডাইন’। আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে তাঁর ‘কু-নজরে’ পড়ে নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল প্রতিবেশী পরিবারের আত্মীয়। তাই তাঁকে বেধড়ক মারা হল। শনিবার বিকেলে হাসপাতালে মারা যান ওই বৃদ্ধ। জলপাইগুড়ির রায়পুর চা বাগানের এই ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কুসংস্কার এখনও কতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন করে রেখেছে মানুষের মন।

মৃত বৃদ্ধের নাম সুকলাল সাঁওয়াসী। ৭২ বছরের অসুস্থ এই বৃদ্ধ রায়পুর চা বাগানের ভুইঞা লাইনের বাসিন্দা। বাড়িতে স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূ রয়েছেন। দিন কয়েক আগে বৃদ্ধের প্রতিবেশী মোংরা সাঁওয়াসীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন তাঁর আত্মীয় দীননাথ সিং ও তাঁর কয়েক জন আত্মীয়। দীননাথের বাড়ি জলপাইগুড়ির করলা ভ্যালি চা-বাগানে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর তাঁর আত্মীয়দের একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতে দীননাথ সুকলালের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন। তাঁর অভিযোগ, সুকলাল ‘ডাইন’। তাঁর কুনজরেই ঘুরতে আসা আত্মীয় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর পর দীননাথ ওই বৃদ্ধকে বেধড়ক মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। প্রথমে লাঠি দিয়ে মাথায় ও চিবুকে আঘাত করেন। পরে বৃদ্ধের গোপনাঙ্গে লাথি মারেন। বাবাকে বাঁচাতে এসে তাঁর হাতে প্রহৃত হন বৃদ্ধের ছেলে বুধুয়া সাঁওয়াসীও। এর পর চিৎকার শুনে পাড়ার লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত দীননাথ পালিয়ে যান। সে দিন বাড়িতেই বৃদ্ধের প্রাথমিক শুশ্রূষা করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় শুক্রবার তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার দুপুরে সেখানেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধের। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মৃতের ছেলে বুধুয়া সাঁওয়াসী। তিনি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত চা-বাগানগুলিতেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে প্রযুক্তির আলোকছটা। কিন্তু অন্ধবিশ্বাস যে এখনও কতটা শিকড় গেড়ে রয়েছে তার প্রমাণ দিয়ে দিল এই ঘটনাই। সরকারি, বেসরকারি স্তরে এই ধরনের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচারে কোনো খামতি নেই। কিন্তু সেই প্রচারের আলো যে অন্ধবিশ্বাসের শেকড় অবধি পৌঁছোচ্ছে না, তা ফের প্রমাণ হল।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দীননাথ পলাতক। শনিবার বৃদ্ধের মৃত্যুর পর কোতোয়ালি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে বৃদ্ধের পরিবার। তাঁর মেয়ে সাবিনা সাঁওয়সী মুণ্ডার বক্তব্য, “যে ভাবে কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে তাঁর বাবাকে খুন হতে হল তার সুবিচার চাই।” ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং রায়পুর চা বাগানের বাসিন্দা প্রধান হেমব্রম। তাঁর বক্তব্য, “অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমাজের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা এই অন্ধবিশ্বাস দূর হবে না।” তবে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারির আশ্বাস দিয়েছেন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন