মুম্বই: ২০০৬ আর ২০১২-এর ‘রিপিট শো’ কি ২০১৬-তেও করবে ইংল্যান্ড? বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এমন চর্চা যখন উঠে আসছে ঠিক তখনই আঘাত আনলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। অভিষেককারী জেনিংসের দাপটে ছন্নছাড়া ভারতকে বেশ কিছুটা অক্সিজেন এনে দিলেন তিনি।

প্রথমেই বলে রাখা ভালো ২০০৬ আর ২০১২-এর প্রসঙ্গ কেন এল। ওয়াঙ্খেড়ে স্টেডিয়াম ইংল্যান্ডের কাছে খুব পয়মন্ত মাঠ। এই মাঠেই ২০০২-এ ভারতকে এক দিনের ম্যাচে হারিয়ে জামা খুলে উড়িয়ে তুলকালাম করেছিলেন অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ। চার বছর সেই ফ্লিন্টফের নেতৃত্বাধীন অপেক্ষাকৃত এক দুর্বল ইংল্যান্ড দল একটি টেস্টে হারিয়ে দেয় ভারতকে। গ্রেগ চ্যাপেল জমানার নানা কেলেঙ্কারির অন্যতম এটি, এমনও মত পোষণ করেন কেউ কেউ। আবার ছ’বছর পর। আবার বিজয়ী ইংল্যান্ড। ঘূর্ণি পিচ বানিয়েও ইংল্যান্ডের স্পিনারদের দাপটেই সেই টেস্টে দুই ইনিংসেই ঘুরে গিয়েছিল ভারতীয় ব্যাটিং। দশ উইকেটে সেই টেস্ট জিতেছিল ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার চা-বিরতির এক ঘণ্টা পরেও সেই পথেই হাঁটছিল ইংল্যান্ড। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন সেই অশ্বিন।

ভারতের পিচে টস জিতে যে কোনো অধিনায়কই চাইবেন আগে ব্যাট করতে। ব্যাতিক্রমী নন আলেস্টার কুকও। এ দিন টস জেতার পর কুকের কাছে প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল মোহালি টেস্টের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। হয়ওনি। হাসিব হামিদ চোটগ্রস্ত হওয়ায় এই টেস্টে অভিষেক করেন কিটন জেনিংস। জেনিংসকে দেখে কখনোই মনে হয়নি তিনি অভিষেক করছেন। প্রথম উইকেটে ওঠে ৯৯। জাদেজার বলে ৪৬ করে আউট হন কুক। তিন নম্বরে নেমে এ দিন ২১-এর বেশি করতে পারেননি জো রুট। তবে নতুন পজিশন চার নম্বরে নেমে দুর্দান্ত খেলেছেন মঈন আলি।

ইতিমধ্যেই অভিষেক টেস্টেই শতরান পূরণ করেন জেনিংস। মঈন আর জেনিংসের জুটি ভারতকে পুরোপুরি ম্যাচ থেকে বের করে দেওয়ার জোগাড় করে দিচ্ছিল। ইংল্যান্ডের স্কোর যখন দুই উইকেটে ২৩০, আঘাত হানেন অশ্বিন। দুই বলের ব্যবধানে ফেরান মঈন আর জেনিংসকে। দশ ওভার পর অশ্বিনের বলেই ফেরেন বেয়ারস্টো। ম্যাচে তখন ক্রমশ ফিরতে শুরু করেছে ভারত। শেষ বেলায় আর কোনো উইকেট না পড়লেও পরপর তিন উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে ইংল্যান্ড।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here