iisc bengaluru

বেঙ্গালুরু: বিজ্ঞান সংস্থার চত্বরে জ্যোতিষবিদ্যার কর্মশালা। জ্যোতিষবিদ্যাকে ‘বিজ্ঞান’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পরিকল্পনা ভালোই ভেঁজেছিলেন প্রাক্তনীদের একাংশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত করা গেল না। প্রতিবাদের মুখে পড়ে বাতিল করতে হল ওই কর্মশালা।

আগামী ২৫ ও ২৬ নভেম্বর বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স-এর (আইআইএসসি) ক্যাম্পাসে বসার কথা ছিল      জ্যোতিষবিদ্যা সংক্রান্ত কর্মশালা। ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল আইআইএসসি অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে। কর্মশালার বিষয় ‘অ্যাস্ট্রোলজি অ্যাজ আ টুল ফর ইন্ডিভিজুয়াল প্রোগ্রেস’। কর্মশালা পরিচালনা করতেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব অ্যাস্ট্রোলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর (আইসিএএস) সদস্য রমেশাইয়া।

আইআইএসসি-এর ক্যাম্পাসে জ্যোতিষবিদ্যার কর্মশালা আয়োজন করার খবর শুনেই নানা মহল প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ইনস্টিটিউটের প্রাক্তনী, ফ্যাকাল্টি এবং গবেষকরা প্রতিবাদে শামিল হন। তাঁদের মন্তব্য, “কর্মশালা আয়োজন করার খবরে স্তম্ভিত। একেবারে অবিশ্বাস্য ঘটনা।”

ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ডিরেক্টর অনুরাগ কুমারকে একটি চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বলেন, “জ্যোতিষবিদ্যা একটা বিশ্বাসের ব্যাপার। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। জ্যোতিষবিদ্যার বিভিন্ন ব্যবস্থা অনুসারে যে সব অনুমান করা হয় তা যাচাই করে দেখার জন্য সরল বিশ্বাসে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, এটা একেবারেই এলোপাথাড়ি ভাবে মিলে যাওয়ার ব্যাপার।”

শনিবার সকালে আইআইএসসি অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংগঠনের সেক্রেটারি কে এস মুকুন্দ জানান, কর্মশালা আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অ্যাসোসিয়েশনের কর্মসমিতির বৈঠকে। তিনি বলেন, “আমি কোনো বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে ডিরেক্টরকে যদি কোনো চিঠি পাঠানো হয়ে থাকে, তা হলে তিনিই ব্যাপারটি দেখবেন।”

কিন্তু বিকেলের দিকে প্রতিবাদী গবেষকদের পক্ষ নিয়ে এগিয়ে আসে ‘ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটি’ (বিএসএস)। এই সংগঠন সারা দেশ জুড়ে  ছদ্মবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে নেমেছে। তারা এক বিবৃতিতে বলে, “ডিরেক্টর অনুরাগ কুমারকে চিঠি লিখে বৈজ্ঞানিক মনোভাবকে সজীব রাখার পথে পদক্ষেপ করেছে আইআইএসসি অ্যালামনি অ্যাসোসিয়েশনের একাংশ। জ্যোতিষবিদ্যার কর্মশালার বিরুদ্ধে যাঁরা স্বাক্ষর অভিযানে নেমেছেন আমরা তাঁদের পাশে আছি।”

শেষ পর্যন্ত ওই কর্মশালা বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শনিবার গভীর রাতে অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এম পি রবীন্দ্রন বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য আলাদা ছিল। যে বিবৃতি জারি করা হয়েছিল তাতে প্রসঙ্গটি পরিষ্কার করে বোঝানো হয়নি। যাঁরা এর প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের উদ্বেগ আমরা সম্যক উপলব্ধি করতে পারছি।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here