bhopal gang rape

নিজস্ব সংবাদদাতা‍: গণধর্ষণের শিকার হল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া এক তরুণী। সেই অপরাধের অভিযোগ নিতে পুলিশ অস্বীকার করায় তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল মধ্যপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, গণধর্ষণের ঘটনার বিচার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার, ভোপালের হবিবগঞ্জ থানা থেকে ২০০ মিটার দূরে। চার জন কাগজকুড়ুনি সিআরপিএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইন্সপেক্টরের ১৯ বছরের কন্যাকে ধর্ষণ করে। ওই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চতুর্থ জনের খোঁজ চলছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রেলস্টেশনের ধারে ঘোরাফেরা করা ওই দুষ্কৃতীরা তরুণীটিকে ফাঁকা রাস্তায় কিছুটা অনুসরণ করে। সন্ধে ৭টা নাগাদ কোচিং ফেরত বাড়িতে ফিরছিল সে। তার পর সুযোগ বুঝে একা পেয়ে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসে এক নির্জন জায়গায়। সেখানেই পর পর তাকে ধর্ষণ করে চার জন। তরুণীটির বয়ান থেকে জানা গিয়েছে যে তারা তাকে হত্যা করারও চেষ্টা করে। কিন্তু তরুণীটিকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। যাওয়ার আগে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার মোবাইল ফোন আর গয়নাগাটি। এর পর তরুণীটি কোনও ক্রমে বাড়িতে পৌঁছিয়ে সব কথা জানালে তাকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি জেনে ধর্ষিতার পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবারই হবিবগঞ্জে স্টেশনে জিআরপি থানায় যান অভিযোগ দায়ের করতে। কিন্তু এই ঘটনা এমপি নগর পুলিশ থানার আওতায় ঘটেছে, এই যুক্তিতে জিআরপি থানা এই অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে।

বুধবার যখন ওই তরুণীর পরিবার এমপি নগর পুলিশ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান, তখন সেখান থেকে বলা হয়, অপরাধ যেখানে ঘটেছে সেই জায়গা হবিবগঞ্জ থানা এলাকার অধীন। থানা সাফ জানিয়ে দেয়, এই ঘটনায় নিষ্পত্তির দায় হবিবগঞ্জ থানারই। সেখানে গেলে আবার প্রহসনের শিকার হতে হয় তরুণীটির পরিবারকে। হবিবগঞ্জ থানা জানায়, অভিযোগ দায়ের করতে হবে জিআরপি জুরিসডিকশনে। অবশেষে পরিবারটির তরফ থেকে চাপ সৃষ্টি করায় লিখিত অভিযোগ নিতে বাধ্য হয় হবিবগঞ্জ থানা।

একটি থানা অন্য থানার ঘাড়ে দায় চাপানোর এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। এমপি নগর, হবিবগঞ্জ ও জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জদের সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং ওই এলাকার পুলিশের সিটি সুপারিন্টেনডেন্টকে বদলি করা হয়েছে। আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) মকরন্দ দেউসকর এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here