টেরাকোটার শহরে মিউজিক ফেস্টিভ্যাল, চলবে রবিবার পর্যন্ত

0
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: বিষ্ণুপুরে শুক্রবার শুরু হল মিউজিক ফেস্টিভ্যাল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটন দফতরের উদ্যোগে এ বছর নতুন করে এই মিউজিক ফেস্টিভ্যাল শুরু হওয়ায় খুশি সংগীতপ্রিয় সাধারণ মানুষ। টেরাকোটার অপরূপ মন্দিরের টানে এখানে আসা পর্যটকরা তিন দিন বিষ্ণুপুর ঘরানার গানের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই মিউজিক ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করলেন রাজ্য পর্যটন দফতরের সচিব অত্রি ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী, বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য সহ জেলা ও পর্যটন দফতরের আধিকারিকরা।

Loading videos...
terracota temple illuminated
আলোয় উদ্ভাসিত বিষ্ণুপুরের মন্দির।

মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুরের অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত টেরাকোটা মন্দিরের টানে ফি বছর দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন। আর এখানে মল্ল রাজাদের আমল থেকেই সংগীতচর্চার চল। তখন থেকেই বিষ্ণুপুর ঘরানার নাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব জুড়ে। কিন্তু ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিল বিষ্ণুপুরের সংগীত। বর্তমান প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল এই সংগীতজগৎ থেকে। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে পর্যটন দফতর উদ্যোগ নিল ‘বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যালে’র। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে জেলার সংগীতপ্রিয় মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর রাসমঞ্চ চত্বরে তিন দিনের এই অনুষ্ঠান হবে। বিষ্ণুপুরের স্থানীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পীরা ছাড়াও রামশরণ মিউজিক কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত গঙ্গোপাধ্যায় পরিবেশন করবেন বিষ্ণুপুর ঘরানার গান। থাকছেন মনোজ মুরুলী নায়ার, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। রবিবার শেষ দিনে থাকছে শিউলি বসুর এসরাজ বাদন। একই সঙ্গে চলবে ধ্রুপদ ও প্রাণায়াম বিষয়ক কর্মশালা ও শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠান। ওই দিন সন্ধ্যায় রয়েছে সৌমিত্র লাহিড়ীর সেতার বাদন, গুণ্ডেচা ব্রাদার্সের ধ্রুপদ সংগীত ও সাবির খানের তবলার অনুষ্ঠান।

inaugural function of bishnupur miusic festival
বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

তিন দিনের মিউজিক ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর পর্যটক এখানে হাজির হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী রাসমঞ্চটিকে বাহারি আলোয় সাজানো হয়েছে। মিউজিক ফেস্টিভ্যালের স্বাদ নিতে শহরবাসীও কসুর করছেন না। সকলেই হাজির হয়ে যাচ্ছেন বিষ্ণুপুর রাসমঞ্চের অস্থায়ী মঞ্চে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.