gujarat elections

অমদাবাদ: হার্দিক পটেলের নেতৃত্বে পাতিদারদের আন্দোলনে বেশ চাপে বিজেপি। বিজেপির নিশ্চিন্ত ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেই পরিচিত পাতিদাররা। কিন্তু এ বার পাতিদারদের ভোট বিজেপি হারাতে চলেছে, সে ব্যাপারে আন্দাজ করতে পেরেছে রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এর ওপর আবার সর্বশেষ সমীক্ষার চাপও রয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে বিজেপি এবং কংগ্রেস একেবারে সেয়ানে সেয়ানে। এই আবহে ওবিসিদের পাশে টানতে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি।

শুধু পাতিদার ভোটই নয়, বিজেপির থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে দলিতদের একটা বড়ো অংশ। সেই সঙ্গে কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ তো রেয়েছেই। গুজরাতের মসনদ পেতে গেলে তাই ওবিসি সম্প্রদায়ের বিপুল সমর্থন প্রয়োজন বলে প্রায় নিশ্চিত শাসক দল।

বিজেপির বড়ো ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত পাতিদাররা গুজরাতের মোট জনসংখ্যার বারো শতাংশ। রাজ্যের ১৮২টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬০টির ভাগ্য নিশ্চিত করে দিতে পারে তারা। দু’বছর ধরে চলা হার্দিক পটেলের সংরক্ষণের আন্দোলনের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তারা। অন্য দিকে পাতিদারদের সংরক্ষণের দাবি খাতায় কলমে মেনে নিয়েছে কংগ্রেস। হার্দিক পটেল তাই সরাসরি নির্বাচনে না দাঁড়ালেও কংগ্রেসের পক্ষেই ভোট দেওয়ার কথা বলছে।

আরও পড়ুন গুজরাত নির্বাচন: গ্রামীণ সৌরাষ্ট্রে ‘অবহেলিত’ মনোভাবকে কাজে লাগাতে ঝাঁপাচ্ছে কংগ্রেস

২০১৫ সালে পাতিদার আন্দোলনের স্মৃতি এখনও টাটকা। সে বার আন্দোলনকারীদের ওপরে পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে আজও গর্জে ওঠে এই সম্প্রদায়ের বর্ষীয়ান কয়েক জন সদস্য। হিন্দুস্তান টাইম্‌সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক জন তাই কোনো রকম রাখঢাক না করেই বলে দেন, “বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।” আরেক জন বলেন, “ভালো শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভালো চাকরির সুযোগের দাবি করা কি অপরাধ?”

এখানে ওবিসি ভোট নিজেদের কাছে টেনে নিতে চাইছে বিজেপি। পাতিদারদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ কিছুতেই মেনে নেবে না ওবিসি সম্প্রদায়। সে ক্ষেত্রে নিজেদের সংরক্ষণে যে ভাটা পড়বে। জামনগরের মখানা গ্রামের দেভজি ভাই বলেন, “তাদের (পাতিদার) অবস্থা ভালো। তাদের নিজেদের ব্যবসা আছে জমিজমা আছে। কেন তারা আমাদের সন্তানদের সুযোগ নষ্ট করে দেবে? পাতিদাররা যদি সংরক্ষণের সুযোগ পায় তা হলে সব সুযোগের ফায়দা তুলবে তারা। আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য আর কিছু থাকবে না।”

গুজরাতের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই ওবিসি। অর্থাৎ পাতিদারদের তিন গুণ। অতীত নির্বাচনে বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ হয়ে যেত ওবিসিদের ভোট। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে এ বার ছবিটা অন্য রকম হতেই পারে। যদি ওবিসি সম্প্রদায় বিজেপিকে ঢেলে ভোট দেয়, তা হলে পাতিদারদের ভোট হারালেও, বিজেপির আদৌ কোনো ক্ষতি হবে না। ২০০২ থেকে ২০১২ পর্যন্ত গুজরাতে ৪৭.৯ থেকে ৪৯.৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে পাতিদারদের প্রায় পুরো ভোটই ছিল বিজেপির ব্যাগে।

গুজরাতে মুসলিমদের ১৭টা-সহ ১৪৬টি জাত ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত। এর মধ্যে সব থেকে বেশি মানুষ মৎস্যজীবী কোলি সম্প্রদায়ের। দক্ষিণ গুজরাত এবং সৌরাষ্ট্রে কোলিদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

বিজেপির মূলমন্ত্র এখন প্রধানত দু’টি। এক দিকে যেমন পাতিদারদের ভোট খুব একটা না কমে সেটা নিশ্চিত করা, অন্য দিকে ওবিসিদের সমর্থন পাওয়া। এই দু’টো মূলমন্ত্র যদি লেগে যায় তা হলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করে দেড়শো আসন পাওয়া সম্ভব হবে তাদের। সেই জন্য বিজেপির প্রার্থী তালিকায় এ বার বেশির ভাগ পাতিদার এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষই স্থান পেয়েছে।

বিজেপির এই মন্ত্র খাটে কি না সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক।

সৌজন্য: হিন্দুস্তান টাইম্‌স

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here