padmavati

ওয়েবডেস্ক: বুধবারই হায়দরাবাদের এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন রাজপুত কর্নি সেনা প্রধান লোকেন্দ্র সিং কলভি – “এ জহরের আগুনের জ্বালা, অনেক কিছুই এই আগুনে ভস্মীভূত হবে!” সেই বিবৃতির ২৪ ঘণ্টাও না পেরোতে জয়পুরের নাহারগড় দুর্গের দেওয়ালে মিলল এক তরুণের ঝুলন্ত দেহ। দেহের পাশে, দুর্গের দেওয়ালের পাথরে কাঠকয়লা দিয়ে লেখা – “আমরা শুধু কুশপুতুলই ঝোলাই না!” এ ছাড়াও লেখা ছিল পাথরের গায়ে- ‘পদ্মাবতী বিরোধ’!

জয়পুরের এই তরুণের মৃত্যু কি তা হলে জুড়ে গেল পদ্মাবতী-বিরোধ ও বিতর্কের সঙ্গে?

কর্নি সেনা প্রধান কিন্তু ঘটনায় তাঁদের যোগাযোগের কথা সম্পূর্ণ ভাবেই অস্বীকার করেছেন। জানিয়েছেন, এমন ঘটনা তিনি বা তাঁর দল কোনো ভাবেই সমর্থন করে না। তা হলে ওই তরুণের মৃত্যুর সঙ্গে ‘পদ্মাবতী’-প্রসঙ্গ জুড়ছে কেন?

nahargarh

সেই ঘটনারই এখন তদন্ত করছে জয়পুর পুলিশ। তরুণটির মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা তার এখনই নির্ণয় না হলেও ঘটনাকে স্বাভাবিক বলে মানতে নারাজ তাঁরা। “দুর্গের দেওয়াল কম খাড়াই নয়। অতটা উঁচুতে উঠে একা একটা লোক দড়ি ঝোলাল, নিজের গলায় ফাঁস পরাল, তার আগে দুর্গের দেওয়ালে কাঠকয়লা দিয়ে সুইসাইড নোট লিখল – এটা বিশ্বাস করা কঠিন। সেই জন্যই আমাদের মনে হচ্ছে তরুণটির সঙ্গে অন্য লোকজন ছিল”, জানিয়েছে পুলিশ।

মৃত ওই তরুণের পকেট থেকে মিলেছে তার আধার কার্ড। সেই তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে তার নাম চেতন কুমার, বয়স ২৩। জয়পুরেরই বাসিন্দা ছিলেন চেতন। পুলিশ আপাতত তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে রহস্যের শিকড়ে পৌঁছোতে চাইছে। কেন না, ‘পদ্মাবতী’র মুক্তির বিরোধিতা করে এই তরুণ আত্মহত্যা করবেন – এমনটা যুক্তিসিদ্ধ নয়।

যদিও অনেকে এই যোগের কথা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ব্রিটেন তাদের দেশে ‘পদ্মাবতী’ মুক্তির সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে বলেই এ দেশে উষ্মা বাড়ছে, এমন যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে এই মৃত্যু প্রসঙ্গে। এমনকি, রাজপুত কর্নি সেনার বিরোধিতার সুরও ধীরে ধীরে নামছে খাদে। এখন জানানো হয়েছে তাঁদের তরফে – যদি চিতোর রাজবংশ ছবি নিয়ে আপত্তি না করে, তবে তারাও করবে না।

nahargarh

এ ছাড়া জানা গিয়েছে, জয়পুর শহরেই ছবির মুক্তি নিয়ে এক মধ্যস্থতার কথা ছিল। এই ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সিমি গারেওয়াল। ব্যক্তিগত ভাবে সঞ্জয় লীলা বনসলির ছবির ভক্ত বলেই এই বিরোধিতার ব্যাপারে তিনি দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর পুরোনো বন্ধু জয়পুরের মহারানি পদ্মিনী দেবীর! এই পদ্মিনী দেবীর মুখের কথাই কর্নি সেনার কাছে আদেশের সমান। পদ্মিনী দেবী ছবিতে ‘ঘুমর’ নাচ-গানের দৃশ্য ছাড়া আপত্তিকর কিছু পাননি। তিনি জানিয়েছিলেন, “শুধু এটুকুই তথ্যবিকৃতি। যত দূর জানি, ঘুমর রাজস্থানের লোকনৃত্য হলেও চিতোরের রানি পদ্মিনীর সময়ে তার প্রচলন হয়নি। আর হলেও তো এক রানি সর্বসমক্ষে নাচবেন না!” যাই হোক, বিরোধিতা তুলে নেওয়ার জন্য কর্নি সেনাকে অনুরোধ জানাতে রাজি হয়েছিলেন মহারানি।

তার পরেই এল এই মৃত্যুর খবর। দেখা যাক, ঘটনার তদন্তে শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছোয় পুলিশ!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here