broken furniture at school

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: স্কুলজীবনের শেষ দিন। তাই আনন্দ-উল্লাস করতে হবে। সেই আনন্দ-উল্লাসের প্রকাশ পেল স্কুলে ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে। জলপাইগুড়ি হাই স্কুলের ঘটনা। অভিযুক্ত স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির কিছু ছাত্র।

এর আগেও ছাত্রদের বিক্ষোভ, ভাঙচুরের ঘটনায় শিরোনামে এসেছে জলপাইগুড়ি শহরের অশোকনগরের এই স্কুলটি। বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা গেল দোতলার তিনটি ক্লাসরুমে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানো হয়েছে। স্কুলবেঞ্চ, স্যারেদের চেয়ার-টেবিল, টিউবলাইট ফ্যান, সিলিং, কিছুই বাদ যায়নি। উল্লাসের হাত থেকে রেহাই পায়নি বাথরুমও।

অন্য ছাত্ররা জানিয়েছে, বুধবার দ্বাদশ শ্রেণির একদল ছাত্র এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। আগামী সোমবার থেকে দ্বাদশ শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষা শুরু হবে। কালই ছিল স্কুলের শেষ দিন। চলে যাওয়ার আগে তাদের এই কাণ্ডে হতভম্ব শিক্ষকরাও।

বৃহস্পতিবার স্কুলে খোলার পর ঘটনা জানাজানি হয়। খোঁজখবর নিয়ে ইতিমধ্যেই তিন জন ছাত্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রধান শিক্ষক সন্দীপ গুণ।

তবে এখানেই বিষয়টিকে ছেড়ে দিতে নারাজ স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের সহকারী শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তীর মন্তব্য, উল্লাসের এই ধরন ভয়াবহ। তাঁর মতে, এখনই কড়া ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে এই ছেলেরা আর বড়ো কাণ্ড ঘটাতে পারে। স্কুলের ছাত্রদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, যারা এই ঘটনায় অভিযুক্ত তারা নানা রকম নেশা করে থাকে। ভয়ে অভিযুক্তদের নামও বলতে চায়নি অন্য ছাত্ররা। তাদের বক্তব্য, ওই ‘মস্তান-দাদারা’ পরে তাদের মারতে পারে।

broken ceilingপ্রশ্ন উঠছে, যারা শুধুমাত্র ছাত্র, তাদের এই রকম ধ্বংসাত্মক মানসিকতার কারণ নিয়েও। এর উত্তর দিয়েছেন জলপাইগুড়ির প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ স্বস্তিশোভন চৌধুরী। তাঁর মতে, স্কুলজীবনে যে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয় তা অভিযুক্ত ছাত্রদের কাছে শেকলের মতো ছিল। সে সব যে তাদের পছন্দমাফিক ছিল না, চলে যাওয়ার আগে স্কুলে ভাঙচুর চালিয়ে তারা সেটারই বহিঃপ্রকাশ করল। বর্তমান অস্থির সামাজিক পরিবেশও এর জন্য দায়ী, মত ডাঃ চৌধুরীর। যারা এই ভাঙচুরের ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের শোধরানো না গেলে তারা আগামী দিনে আরও বড়ো ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে, বলছেন মনোবিদরা।

বস্তুত, ঘটনা জানার পর হতবাক শহরের মানুষও। বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিচ্ছে না স্কুলও। অভিযুক্ত ছাত্রদের স্কুল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি, তাদের আসন্ন টেস্ট পরীক্ষায় বসতে নাও দেওয়া হতে পারে, জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সন্দীপ গুণ। এই ঘটনায় আর কারা জড়িত তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আগামী কাল অভিভাবক-সহ অভিযুক্ত  ছাত্রদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা ছাত্র এবং অভিভাবকদেরই মিটিয়ে দিতে হবে, সিদ্ধান্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here