নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান : সম্পর্কে ফাটল তৈরি হচ্ছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। এ বার প্রকাশ্যে এল বর্ধমান পুলিশ ও সরকারি আধিকারিকদের বিবাদ। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দফায় দফায় জেলার সরকারি আধিকারিকদের হয়রানি এবং চূড়ান্ত অসহযোগিতার অভিযোগ উঠল বর্ধমান পুলিশের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার ডব্লিউবিসিএস অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের বর্ধমান ইউনিটের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে পুলিশি অসহযোগিতার অভিযোগ জানানো হল জেলাশাসক ড. সৌমিত্র মোহনের কাছে। বিবাদের সূত্রপাত বালি তোলা নিয়ে। অবৈধ ভাবে বালি তোলার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আধিকারিকরা অভিযান চালিয়েছেন একাধিক বার। সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলেন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকরা।

দিন কয়েক আগে কাটোয়ার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বিপ্লব সরকার কেতুগ্রামে বেআইনি বালি তোলার বিরুদ্ধে অভিযানে যান। ওই আধিকারিক ঘুষ নিয়েছেন বলে কেতুগ্রাম থানার আইসি আবু সেলিম অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় আলোড়ন পড়ে যায়। শুধু কেতুগ্রাম নয়, খন্ডঘোষ, কাটোয়া, গলসি সহ বেশ কিছু জায়গায় ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে বর্ধমান পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে। বর্ধমানের জেলাশাসক ড. সৌমিত্র মোহন এই ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের রিপোর্ট আসার পরই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও কেতুগ্রামের বিতর্কিত পুলিশ অফিসার আবু সেলিমের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ওঠাবসা থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি রাজ্য পুলিশের এডিজি আট সপ্তাহ আগে কেতুগ্রাম থানার আইসির বদলির নির্দেশিকা জারি করলেও এখনও কার্যকর হয়নি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here