চিনা যুদ্ধবন্দি সপরিবার দেশে ফিরছেন পাঁচ দশক পর

0
182

ভোপাল: পাঁচ দশক পর দেশে ফিরছেন প্রাক্তন চিনা যুদ্ধবন্দি ওয়াং কি। সঙ্গে যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী সুশীলা, পুত্র বিষ্ণু এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য। এই খবর দিয়েছেন বালাঘাট জেলার কালেক্টর ভরত যাদব।

যাদব জানিয়েছেন, ওয়াংয়ের পরিবার শুক্রবারই ভিসা পেয়েছে। শনিবার যে কোনো সময়ে ওরা দেশের উদ্দেশে রওনা হবে। চিনের সরকারি সূত্রও জানিয়েছে, শনিবার তাঁরা দেশে পৌঁছচ্ছেন। দেশে পৌঁছেই শানজি প্রদেশে তাঁদের নিজেদের গ্রামে যাবেন ওয়াং, সেখানে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করবেন। গত এক সপ্তাহের মধ্যে গোটা ব্যাপারটি চূড়ান্ত হয়েছে। ওয়াং কি দীর্ঘদিন ধরেই দেশে যেতে চাইছিলেন। ভারতে চিনা দূতাবাসের এক প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে দেখা করার পর সব কিছু চূড়ান্ত হয়।

ওয়াংয়ের পুত্র বিষ্ণু জানান, চিনা দূতাবাস থেকে তিন জন এসেছিলেন। তাঁরা বাবার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা চিন সফরের ব্যাপারে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।      

highlightবিষ্ণু জানান, তাঁর বাবা চিনা সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৬০-এ। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের সময় তিনি পূর্ব সীমান্তে ছিলেন। একদিন রাতে ভুল করে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েন। শেষ পর্যন্ত চলে আসেন অসমে। সেখানে ১৯৬৩-এর ১ জানুয়ারি ভারতীয় রেড ক্রস তাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। অসম, অজমের ও দিল্লির জেলে ৬ বছর কাটানোর পর পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ১৯৬৯-এর মার্চে তাঁকে মুক্তি দেন।

বিষ্ণু একটি ফার্মের অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি বলেন, “বাবাকে পুনর্বাসন দেওয়া হবে, আদালতে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত সরকার। তাঁকে দিল্লি, ভোপাল, জয়পুর ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাবা সেখানে একটা মিলের রক্ষী হিসাবে কাজ শুরু করেন। তাঁর ‘নেপালি নেপালি’ চেহারা দেখে সহকর্মীরা তাঁর নাম দেন রাজবাহাদুর।”

কিন্তু কপালে যে কী লেখা থাকে তা তো জানা যায় না। যে দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসে তিনি যুদ্ধবন্দি হলেন, সেই দেশেরই মেয়ে সুশীলাকে বিয়ে করে হলেন সংসারী। সালটা ১৯৭৫। মোটামুটি একটা চাকরি করছেন ওয়াং, সরকারের ঘর থেকে পেনশন পাচ্ছেন। ভালোই চলছিল। কিন্তু সুখ বেশি দিন থাকল না। সুশীলাকে বিয়ে করার কয়েক মাস পরে সরকার তাঁর মাসিক ১০০ টাকা পেনশন বন্ধ করে দিল।  

highlightঅনেক লড়াই লড়েছেন ওয়াং কি। খুব কষ্টে সংসার চালিয়েছেন। চিনা ওয়াং কি ভারতের নাগরিকত্ব পাননি। তাই এখানে জমিজিরেত কিনতে পারেননি, পাননি অন্যান্য সুযোগসুবিধা। তাই দেশে ফিরে যেতে চেয়েছেন। বার বার ভারতের প্রধানমন্ত্রীদের চিঠি দিয়েছেন, কাজ হয়নি। ইতিমধ্যে ওয়াংয়ের মা ২০০৬ সালে মারা যান। মায়ের সঙ্গেও শেষ দেখাটা হল না। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আপিল করেন ওয়াং। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

তিন বছর পরে ওয়াংয়ের ভাইপো ইউন চুন ভারতে বেড়াতে আসেন। তখন ভাইপোর সঙ্গে দেখা করে নিজের দুর্দশার কথা বলেন তিনি। দেশে ফিরে ইউন চুন চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কাকার দেশে আসার ব্যবস্থা করেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে তখনকার চিনা বিদেশমন্ত্রীর দেখা করেন ওয়াং কি। তিনিই চিনে আসার পাসপোর্ট পেতে ওয়াংকে সাহায্য করেন। ৭৭ বছরের ওয়াং কি এত দিনে পেয়েছেন ভিসা। দেশোয়ালিদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।  

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here