মঙ্গলবার রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এল না

demonstration against citizenship bill
বিলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি সৌজন্যে হিন্দুস্তান টাইমস।

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯ মঙ্গলবার রাজ্যসভায় পেশ হল না। বুধবার চলতি অধিবেশনের শেষ দিন। এ দিন বিলটি পেশের সম্ভাবনা কম। কংগ্ৰেস সাংসদ ভুবনেশ্বর কলিতা মঙ্গলবার জানান, রাষ্ট্ৰপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদসূচক প্ৰস্তাব এবং বাজেট পাশ ছাড়াও ৬টি উল্লেখযোগ্য বিল আছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য তা পাশ করাতেই হবে।

এ দিকে বিলের বিরুদ্ধে প্ৰতিবেশী রাজ্যগুলি-সহ অসমে আন্দোলন অব্যাহত আছে। বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ফলে যাতে কোনো হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটে তার জন্য মণিপুর সরকার পূৰ্ব ইম্ফল এবং পশ্চিম ইম্ফল জেলায় কারফিউ জারি করেছে। টিভির প্ৰচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, ইণ্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

মিজোরামের রাজধানী আইজল সিটি স্কোয়ার-এ মঙ্গলবার প্রবল বিল-বিরোধী বিক্ষোভ দেখানো হয়।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্ৰী কর্নাড সাংমার নেতৃত্বে দিল্লিতে বিল-বিরোধী জোট তৈরি করা হয়েছে।

আসুর সভাপতি দীপাংক নাথ এবং উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচাৰ্যরা জানিয়েছেন, বিলটি সংসদে গৃহীত হলে তাঁরা সুপ্ৰিম কোৰ্টের দ্বারস্থ হবেন। আসুর সঙ্গে উত্তর-পূৰ্ব ছাত্ৰ সংস্থা (নেসো)ও সুপ্ৰিম কোৰ্টে যাবে। সমুজ্জ্বল বলেছেন, বিলটি পাশ হলে শুধু উত্তর-পূৰ্বাঞ্চল নয়, সমগ্ৰ দেশেই সমস্যা সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন তৃণমূল বিধায়ক খুনের জামিন মামলায় মুকুল রায়ের হয়ে লড়ছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য

এ দিকে মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল মঙ্গলবার রাজ্যবাসীকে আবার আশ্বস্ত করে বলেছেন, শঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই, বিলটি পাশ হলে ‘জাতি-মাটি-ভেটি’ সুরক্ষিত হবে। কোনও বিদেশি অসমকে দখল করতে পারবে না। অসমের জাতীয় জীবনকে কোনো বিদেশি বিপন্নও করতে পারবে না। কোনো যুক্তিতেই অসম সরকার অসমের ‘মাটি-ভেটি, কৃষ্টি-সংস্কৃতি রীতি-নীতি এবং ভাষা সাহিত্যকে’ ক্ষতিগ্ৰস্ত হতে দেবে না।

মঙ্গলবার ডিব্ৰুগড়ে কাছাড়ি স্বায়ত্তশাসিত পরিষদের নবনিৰ্বাচিত সদস্যদের শপথগ্ৰহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এবং ‘মুখ্যমন্ত্ৰী কৃষি সাজ-সরঞ্জাম যোজনা’ শুভারম্ভ করে মুখ্যমন্ত্ৰী অসমবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “অসমের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ একতার বন্ধনে মিলন প্ৰীতির মাধ্যমে সম্পদ সম্ভাবনা বিকাশে আত্ম নিয়োগ করলে কোনো শক্তিই অসমকে পরাভূত করতে পারবে না। অসম সরকার কোনো কিছুই লুকোচ্ছে না, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মুক্ত মনে সরকার চালাচ্ছে। এই সরকারের কোনো দুষ্টবুদ্ধি নেই।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.