শৈবাল বিশ্বাস

আগামী ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় মানিকতলার কাছে দধীচি ভবনে অনুষ্ঠিত হবে আরএসএসের সীমান্ত সম্মেলন। অর্থাৎ এ রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলায় কী হচ্ছে তার হাল হকিকত নেওয়া হবে এই সম্মেলনে। আলোচনার বিষয়বস্তু সে ভাবে নির্দিষ্ট না থাকলেও মোটামুটি অনুমান করা যায় সীমান্তে মুসলিম অনুপ্রবেশ আর সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়েই চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। তবে সরাসরি আরএসএস নাম দিয়ে এই সম্মেলন হচ্ছে না। আয়োজক সংস্থার নাম দেওয়া হয়েছে সীমান্ত চেতনা মোর্চা।

আসলে যাতে এই ধরনের সম্মেলনগুলিতে সরকারি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিয়ে কোনো সমালোচনা না হয়, অথবা সমালোচনা হলেও যাতে যুক্তিসঙ্গত জবাব দেওয়া যায়, তাই সরাসরি আরএসএসের ব্যানারের পরিবর্তে এনজিও গোছের সংগঠন গড়ে এগোনোর চেষ্টা হচ্ছে। এ হেন এনজিওটির অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত থাকবেন দুই রাজ্যপাল – পশ্চিমবঙ্গের কেশরীনাথ ত্রিপাঠী ও ত্রিপুরার তথাগত রায়।

এদের উপস্থিতির খবর চাউর হওয়া মাত্র তীব্র প্রতিবাদ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে প্রতিবাদ সত্ত্বেও তাঁরা পিছিয়ে আসছেন না। ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েক জন বর্তমান আধিকারিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। ২০১৬-র জানুয়ারিতে অসমে এই সংগঠনটির একটি সম্মেলন হয়েছিল। তাতে শীর্ষ বিএসএফ আধিকারিকদের অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন। ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও। বিএসএফকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা রাখি উৎসবও পালন করেছেন।

জানা গিয়েছে, এ বারের সম্মেলনে অসম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, মিজোরাম, মণিপুর থেকে তিনশো প্রতিনিধি যোগ দেবেন।
তৃণমূল-সহ অন্য বিরোধীদের বক্তব্য, সীমান্তে আরএসএসের উগ্র হিন্দুত্বর অ্যাজেন্ডা চরিতার্থ করতে প্রশাসনিক ক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন