drubashram Ariadaha
chiranjib paul
চিরঞ্জীব পাল

চারিপাশে বিশাল পাঁচিল। সেই পাঁচিল যাতে টাপকানো না যায় তার জন্য কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। কিন্তু সে সব অর্থহীন প্রমাণ করে দিয়ে গত সোমবার আড়িয়াদহের সরকারি হোম ধ্রুবাশ্রম থেকে ২৫ জন বিচারাধীন আবাসিক পালিয়েছে। কেউ নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে মেন গেট দিয়ে, কেউ আবার পাঁচিল টপকে। এদের মধ্যে ১৪ জনকে উদ্ধার করা গিয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।

এই রকম বন্দি পালানোর ঘটনা ধ্রুবাশ্রম হোমে নতুন নয়। দু’সপ্তাহে ছ’ বার আবাসিক পালানোর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেন বারবার হোম থেকে পালাচ্ছে বিচারাধীন বন্দি আবাসিকেরা?

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে বন্দি আবাসিকদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের। আরও অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দ মতো খাবার বা অন্যান্য সামগ্রী ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগে শুক্রবার হোম কর্তৃপক্ষের কাছে ডেপুটেশন দিল এপিডিআর-এর বেলঘরিয়া শাখা।

হোমের সুপার সুব্রত দাস হোমের পরিস্থিতি নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ কথা বলেন এপিডিআর-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, মাত্র ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে চলছে ধ্রুবাশ্রম। অর্থাৎ যেখানে ৪৬ জন কর্মী থাকার কথা সেখানে মাত্র ২৪ জন কর্মী নিয়ে হোম চলছে। যে হেতু বিচারাধীন বন্দিরাই মূলত এই হোমে থাকে, তাই তাদের মধ্যে অনেকেরই অপরাধপ্রবণ মানসিকতা রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় তাদের সামলানো বেশ সমস্যা হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার পালানোর সময় মেন গেটের নিরাপত্তারক্ষীকেও বেধড়ক মারধর করে বন্দিরা। আঘাত লাগে তাঁর পাঁজরে। তিনি দেখাচ্ছিলেন সেই আঘাতের চিহ্ন।

Drubashramআবাসিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, হোমের আবাসিকদের উপর কোনো রকম অত্যাচার করা হয় না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হোমে লাঠি পর্যন্ত রাখা যায় না। সেখানে মারধরের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে কোনো আবাসিক অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে কোনো কর্মী হয়ত ‘চড়’ মেরে থাকতে পারেন বলে সুপার এপিডিআর-এর প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন। আবাসিকদের মধ্যে বয়সে বড়োরাই অধিকাংশ সময় ছোটেদের নিগ্রহ করে থাকে। অনেক সময় বয়সের নথিতে গরমিল থাকায় সাবালকরা নাবালক হিসাবে চলে আসে এই হোমে। ফলে তারা অনেক সময় অশান্তি সৃষ্টি করে থাকে।

পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত এই হোমে বর্তমানে ২৯ জন আবাসিক রয়েছে। যারা পালিয়ে ছিল তাদের মধ্যে উদ্ধার হওয়া ১১ জনকে ধ্রুবাশ্রমে রাখা হয়েছে। অন্য আবাসিকদের থেকে তাদের আলাদা করে রাখা হয়েছে।  সুপার জানিয়েছেন, হোমের একজন আবাসিকের খাওয়া পিছু বরাদ্দ মাসে ১৪০০ টাকা। এ ছাড়া সাবান তেল এবং অন্যান্য সামগ্রী আলাদা করে দেওয়া হয়।

কর্মী কম থাকায় সুযোগ পেলেই আবাসিকরা রাস্তায় বেরিয়ে ঘুরে বেড়ায়। নিয়ম অনুযায়ী হোমে আবাসিকদের নিয়মিত মানসিক কাউন্সেলিং হওয়ার কথা, কিন্তু ধ্রুবাশ্রমে কোনো কাউন্সিলার নেই। নিয়মিত চিকিৎসারও কোনো ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসক আসেন কালে-ভদ্রে।

ধ্রবাশ্রমের পুরো নাম, ‘ধ্রুবাশ্রম অবজারভেশন অ্যান্ড স্পেশাল হোম অ্যান্ড প্লেস অফ সেফটি’। নামই সার, বেহাল পরিকাঠামোর কারণে বেপাত্তা ‘নজরদারি’, ‘নিরাপত্তা’। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন খোদ হোমের কর্মীরাই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here