eye operation

কলকাতা: অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে নয়, রোগীকে চেয়ারে বসিয়েঈ দু’ ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করলেন ডাক্তার। এই অভিযোগ উঠল এসএসকেএম হাসপাতালের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের ডিরেক্টর এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

চার জন যুবকের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ১৪ বছরের মঙ্গলা বরাট। এর ফলে সে চোখের তলায়, মাথায় ও দাঁতে গুরুতর ভাবে আঘাত পায়। তার চোখের একটি হাড়ও ভেঙে যায়। প্রথমে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে ১০ নভেম্বর তাকে এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তখন থেকে এই হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।

মঙ্গলার চোখের নীচে ভাঙা হাড়ের জায়গাটিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত হয়। সেইমতো তাকে চক্ষু বিভাগ থেকে প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে রেফার করা হয়। কিন্তু প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ওটি সে দিন অন্য রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য বরাদ্দ ছিল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলা শারীরিক ভাবে সে দিন খুবই কষ্ট পাচ্ছিল। তাই তার পরিবারের তরফ থেকে প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ডাক্তারকে অস্ত্রোপচার করার জন্য বার বার অনুরোধ করা হয়। এর পর প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের ডঃ অনির্বাণ সেনগুপ্ত বাধ্য হয়েই বিভাগের চেয়ারে বসিয়েই মঙ্গলার অস্ত্রোপচার করেন। টানা দু’ ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচার। যদিও অস্ত্রোপচার সফল। এবং মঙ্গলা এখন ভালো আছে।

কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে একটা গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে – কী ভাবে ওটিতে না নিয়ে গিয়ে একটি সরকারি হাসপাতালে চেয়ারে বসিয়ে  অস্ত্রোপচার করা হল। অস্ত্রোপচারের সময় যদি কোনো বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত, তা হলে তার দায় কি ডাক্তার নিতেন?

হাসপাতালের ডিরেক্টর অজয় কুমার রায় বলেন, “এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিভাগীয় প্রধানকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে একটি রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। আর এই রিপোর্ট পাওয়ার পরই এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here