khalid zamil in mohun bagan tent

কলকাতা: প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতিটা খুঁটিনাটির খোঁজ রাখার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। গুপ্তচর পাঠিয়ে হোক বা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভিডিও অ্যানালিসিস করে, হোমওয়ার্কটা বরাবরই জমিয়ে করেন খালিদ জামিল। আই লিগের মহাম্যাচই বা তাঁর চিরাচরিত স্বভাবের থেকে বাদ যায় কী ভাবে। তবে এ ক্ষেত্রে কারও সাহায্যে নয়, একেবারে নিজে ময়দানে নেমে যাবতীয় খবরাখবর জোগাড় করে গেলেন এই আই লিগ জয়ী কোচ। তা-ও আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুতে এসে।

শনিবার বিকেলে ব্রেন্ডনকে সঙ্গে করে সবুজ-মেরুন তাঁবুতে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রশিক্ষক। সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করলেও নির্লিপ্ত ভাবে খালিদের ‘অচ্ছা খেলনা পড়েগা’-র বাইরে কোনো তথ্য বের করতে পারেননি। ঠান্ডা মাথার খালিদ কিন্ত নিজের কাজটা করেই ফিরলেন।

মোহনবাগান তাঁবু ছাড়ার আগে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের তীব্র ব্যাঙ্গাত্মক স্লোগানের মুখেও তাঁকে টলানো যায়নি। খালিদ সবুজ-মেরুন তাঁবু ছেড়ে যখন বেরোচ্ছেন, তখন সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যস্ত সঞ্জয় সেন-সনি নর্ডি। সমর্থকরা সে সবের পরোয়া না করেই ‘হারেগা রে হারেগা, খালিদ কা টিম হারেগা’ বলে তীব্র স্লোগান তোলেন। গোটা ঘটনার মাঝে পড়েও শুধু হাসিমুখে খালিদ বলে যান, ‘বহুত অ্যাগ্রেসিভ হ্যায় কলকাতা কা সাপোর্টার লোক।’ কিন্তু তার মাঝেই চোখের ঈশারায় কাজের কাজটা সারেন। গোষ্ট পাল সরণির উলটো দিকে রাখা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পরিচিত কয়েক জনের সঙ্গে বেশ অনেকক্ষণ কথা বলেন খালিদ। বলা ভালো, কথা বলার বাহানায় প্রায় গোটা মোহনবাগান দল সম্পর্কেই খোঁজ নিয়ে ফিরেছেন খালিদ। খালিদের সঙ্গে আলোচনায় থাকা এক জন জানাচ্ছিলেন, ‘গোলকিপারে শিল্টন বা মাঝমাঠে ইউটা খেলবে কিনা, জিজ্ঞেস করছিলেন খালিদ।’

সাংবাদিক সম্মেলনে এসে কিছুটা অচেনা ছন্দেই হেসে হেসেই কথা বলছিলেন খালিদ। ডার্বির মতো চাপের ম্যাচের আগে হাসির কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, “সব সময় সিরিয়াস থাকি এমনটা নয়। যখন হাসার দরকার হাসিও। আর নতুন ক্লাবে নতুন পরিবেশে এসে ভালোই লাগছে।”

খালিদের কথায় হাসির রোল উঠলেও ধুরন্ধর কোচের কেন এমন ভোল বদল সেটা বোঝা গেল পরে। আসলে মোহনবাগান তাঁবুতে পা রাখার আগেই অচেনা গুপ্তচর পাঠিয়ে নিজের নোটবুকটা ঝালিয়ে নেওয়ার কাজটা সেরে রাখলেন খালিদ জামিল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here