সানি চক্রবর্তী:

দুপুর ৩টে ৩০ মিনিট। চাঁদিফাটা রোদ ও গরমের জেরে রাস্তায় বেরোনো দায়। একান্ত কাজ না থাকলে বাড়িতে থাকাটাকেই শ্রেয় মনে করছেন অনেকে। ডাক্তাররাও পরামর্শ দিচ্ছেন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সামলে থাকুন।

ঠিক এ রকম সময়েই ওরা কৃত্রিম টার্ফের মাঠে ফুটবল খেলতে নামছে!

হ্যাঁ, ওরা যারা ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ। অনূর্ধ্ব ১৮ আই লিগ চলছে এ ভাবেই। সকাল ৯টা ৩০ মিনিট, সকাল ১১টা ৩০ মিনিট ও দুপুর ৩টে ৩০ মিনিট। এই তিনটে সময়ে কলকাতার এই প্রচণ্ড গরমে ফুটবল খেলছে দেশের সেরা জুনিয়ার ফুটবলাররা।

ঠিক কতটা তারা খেলতে পারছে সেই তর্কে আর না যাওয়াই ভালো। একেবারে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চলতে থাকা অনূর্ধ্ব-১৮ আই লিগের সেমিফাইনাল হয়ে গেল শুক্রবার। বারাসতের বিদ্যাসাগর স্টেডিয়ামের অ্যাস্টোটার্ফে হল দু’টো ম্যাচ। ভারতীয় ফুটবলের এই ঘোর বাস্তবের কথা শুনে বাঙালি ফুটবল-মন কষ্ট হলেও কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে সালগাঁওকারকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠল ইস্টবেঙ্গল। রঞ্জন চৌধুরীর প্রশিক্ষণে প্রথম বার এই কাজটা করে দেখাল লাল-হলুদের জুনিয়াররা। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রথমার্ধে গোলের খাতা খোলেন গোটা প্রতিযোগিতায় দারুণ ছন্দ দেখানো বিদ্যাসাগর সিং। পরে দু’টি গোল করেন সুরঞ্জিত সিং। যার মধ্যে একটি বিশ্বমানের। সালগাঁওকার শেষ দিকে দু’টো গোল শোধ করলেও লিড ধরে রাখে ইস্টবেঙ্গল। বড়োরা যেটা করতে পারেননি, লাল-হলুদে সেটাই কি করে দেখাবেন জুনিয়াররা? উত্তরটা পাওয়া যাবে রবিবার (৭মে) দুপুর সাড়ে ৩টের পর।

ফাইনালে তাদের লড়তে হবে গত বারের চ্যাম্পিয়ন এআইএফএফ এলিট অ্যাকাডেমির সঙ্গে। যারা সেমিফাইনালে হারিয়েছে কলকাতার অপর দল ইউনাইটেড স্পোর্টসকে। টাইব্রেকারে হার মানতে হয়েছে ইউনাইটেডকে। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ছিল ০-০। এত দিন পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের পরে এক্সট্রা টাইমের খেলা হলেও সেমিফাইনাল থেকে হঠাৎই সরাসরি টাইব্রেকারের আমদানি হয়েছে। কারণ হিসেবে এআইএফএফ-র যু্ক্তি, গরমে বেশিক্ষণ খেলতে হলে অসুবিধায় পড়বে ফুটবলাররা!

(ছবিতে বাঁ দিকে সুরঞ্জিত, ডান দিকে বিদ্যাসাগর)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here