injured father

নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ বাবাকে মেরে তাঁর পা ভেঙে দিল কীর্তিমান ছেলে। বৃদ্ধ সোনারপুরের এক নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন, ছেলে গারদে।

ঘটনা শুক্রবার সন্ধের। সোনারপুরের বিদ্যাধরপুর মাদ্রাসার ঝিলপাড় এলাকার বাসিন্দা সুশীল মণ্ডল। জোর করে বাড়ির গোয়ালঘর ভেঙে দিচ্ছিল ছেলে। বৃদ্ধ বাবা এর প্রতিবাদ করেন। ছেলে তখন শাবল দিয়ে মেরে বাবার পা ভেঙে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় খবর দিলে সোনারপুর থানার পুলিশ এসে বৃদ্ধকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে সেখান থেকে সোনারপুরের এক নার্সিংহোমে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। ঘটনার জেরে অভিযুক্ত ছেলে মাধব মণ্ডলকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাকে শনিবার দুপুরে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাকে ১৪ দিনের জন্য জেল হাজতে পাঠান।

ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৭২ বছরের সুশীল মণ্ডলের দোতলা বাড়ি, বাড়ির পাশেই তাঁর একটি কেজি স্কুলও আছে। বৃদ্ধর তিন মেয়ে এক ছেলে। ছেলে মাধব কলকাতার রাসবিহারী অ্যাভেনিউতে একটি পেট্রল পাম্পে কাজ করে। মাধব ও তার স্ত্রী আলাদা থাকে। অনেক দিন ধরেই বাবার সম্পত্তি জোর করে লিখিয়ে নিতে চাইছিল মাধব। ছেলের আচরণে বিরক্ত হয়ে বৃদ্ধ বাবা তার বিরুদ্ধে বারুইপুর মহকুমা আদালতে খোরপোষের মামলাও করেছেন। সম্প্রতি সেই মামলার রায় ছেলের বিরুদ্ধে গিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ছেলে বাড়ির গোয়ালঘর ভেঙে দিচ্ছিল। বাবা এর প্রতিবাদ করতে গেলে ছেলে লোহার শাবল নিয়ে আক্রমণ চালায় বাবার উপর। বৃদ্ধ বাবাকে বেধড়ক মারে ছেলে মাধব, পাশে দাঁড়িয়ে দেখে তার স্ত্রী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও বাবা-মাকে মারধর করেছিল ছেলে। প্রতিবেশীরা বাধা দিতে এলে তাঁদের বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ করেছিল অভিযুক্ত ছেলে। সম্পত্তি গায়ের জোরে নিজের নামে লিখে নেওয়ার চেষ্টা করছিল ছেলে। এমনকি জোর করে বাবার কেজি স্কুল নিজের নামে লিখিয়ে নিতে চেয়েছিল ছেলে। এই ছেলের কড়া শাস্তি দাবি করেছেন এলাকার মানুষজন।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here