srijanee in lokavijan fair

নিজস্ব প্রতিনিধি: এই মঞ্চ যেমন বহু গুণীজনের পদধূলিতে ধন্য তেমনই এই মঞ্চ অনেক শিল্পীর পথ সুগম করেছে। বড়িষা আসর (প্রাথমিক) বিদ্যাপীঠ, শীলপাড়ায়, সুধী প্রধান মঞ্চে মাটির গান হয়ে চলেছে ২০ বছর ধরে। আয়োজনে ‘লোকাভিযান’।

arfin on dais
লোকসংগীত পরিবেশন করছেন আরফিন।

প্রতি বছরের মতো এ বছরও নানা আঙ্গিকের লোকগান সুধী প্রধান মঞ্চে শুনিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা। টানা দশ দিনের এই অনুষ্ঠানের শেষ দিনে সারেগামা-র আরফিন মঞ্চকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গাইলেন আব্বাসউদ্দিনের গান। এই মঞ্চ আজ তাঁকে অনেক পথ এগিয়ে দিয়েছে। মুম্বই থেকে ফোনে জানিয়েছিলেন, কোনো একদিন আসবেনই। সে কথার অন্যথা হয়নি। ধরলেন আব্বাসউদ্দিনের গান। এক সময়ে বছর নয়েকের আরফিন বাবার প্রশিক্ষণে এই মঞ্চেই আব্বাসউদ্দিনের গান গেয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন। এলাকার ভূমিপুত্র গানেই সম্মান জানিয়ে গেলেন এই দিন।

দশ দিনের এই লোকসংস্কৃতি মেলায় সুধী প্রধান দিবিস, গুরুসদয় দত্ত দিবস, নির্মলেন্দু চৌধুরী দিবস, গুরুদাস পাল দিবস, সৌম্যদীপ রায় চৌধুরী দিবস, বিষ্ণুপদ দাস দিবস, কালাচাঁদ দরবেশ দিবস, অংশুমান রায় দিবস, প্রতিমা বড়ুয়া দিবস ও লালন ফকির দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এমন পরিপূর্ণ লোকগানের মেলার শুরুটা কেমন ছিল? সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক উমাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় জানালেন, শুরু’র শুরু থাকে। জেমস্‌ লং সরণির উপরে এত ভালো জায়গা ছিল না এই মেলার। এক সময় ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বড়িষার চুয়ারবনে দু’বছর, শক্তিসঙ্ঘের মাঠে পাঁচ বছর চলার পরে শীলপাড়া অঞ্চলে স্থায়ী হয়। তবুও সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ব্রজতরঙ্গ সৃষ্টির জনক ব্রজেন বিশ্বাস ও ভাওয়াইয়া শিল্পী বিষ্ণুপদ দাস। প্রকৃতিকে ভালো না বাসলে, ঘর ছেড়ে মাটির কাছে না এসে পৌঁছোলে লোকগানের স্বাদ পাওয়া যায় না। তাই প্রথম দিকে শুধু গ্রামেগঞ্জে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে আলাপ হয় বিবেকানন্দ ঘোষ, তাপস দাশগুপ্ত, ব্রজেন বিশ্বাস, বিষ্ণুপদ দাস প্রমুখের সঙ্গে। মনে মাটির টান আর সেই মাটিতে হাল টানলেন সুধী প্রধান। পাশে দাঁড়ালেন শুভেন্দু মাইতির মতো লোকশিল্পী। মিলিত উৎসবের সুর ছড়িয়ে গেল জেলার প্রান্তিকে। কিন্তু আমাদের মেলা শুরুর আগেই সুধী প্রধান আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

মঙ্গলদাস বাউলের পরিবেশনায় লোকমেলার উদ্‌বোধন হয়। প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে সুধী প্রধান স্মারক সম্মান পান মঙ্গলদাস বাউল ও জুলফিকার আলি আনসারি।

shashwati bandyopadhyay
সংগীত পরিবেশন করছেন শাশ্বতী বন্দ্যোপাধ্যায়।

নানা দিনে নানা আঙ্গিকের পরিবেশন ছিল। কখনও মেয়েদের লোকাচার ও ব্রতকথার গান পরিবেশন করে লালন অ্যাকাডেমি। পরিচালনায় ছিলেন তাপসী রায়চৌধুরী। আবার মুসলিম বিয়ের গানের পাশাপাশি ছিল বাংলা কাওয়ালি ও ফকিরি গান, পরিবেশনায় বাউল ফকিরি আখড়া। পরিচালনায় আশরাফ ফকির। রবীন্দ্রনাথের লোক-আঙ্গিকের গান পরিবেশন করে ‘অনুভব’ সংস্থা। ভাদু-ভাওয়াইয়া-সারি-জারি-ভাটিয়ালির সঙ্গে উঠে এসেছে কোথাও নৌকাবিলাস, লোকনৃত্য, লোকগল্পপাঠ ও সমবেত লোকগান। বেহালার মাটিকে ধন্য করে গিয়েছেন বহু সঙ্গীতশিল্পী। তাঁদের উত্তরসূরিকে উৎসাহ প্রদান করাই এই মঞ্চের উদ্দেশ্য। স্থানীয় বেশ কিছু সংস্থা ভালো কাজ করে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে লিপিকা হালদারের ‘গীতিরশ্মি’, শ্বাশতী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দক্ষিণ সৃজনী’, কাকলি মজুমদারের ‘বিহঙ্গম’, অঞ্জনা মজুমদারের ‘নবারুণ’। পরিবেশিত হয়েছে নীলাদ্রি লাহিড়ীর পরিচালিত লোকনাটক।

সমাপ্তি দিনের অনুষ্ঠানে ‘দক্ষিণ সৃজনী’ পরিবেশিত প্রয়াত কালিকাপ্রসাদের সৃষ্টি ‘গৌরী এল’ গানটি শ্রোতাবন্ধুদের মুগ্ধ করে। উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উদ্‌বোধক রজত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মঙ্গলদাস বাউল, প্রধান অতিথি শুভেন্দু মাইতি, সভাপতি স্বপন মুখোপাধ্যায়, বিশেষ অতিথি তন্ময় রায়চৌধুরী ও সুদীপ পোল্লে এবং উৎসব কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংশুক রায় ও উমাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here