শ্রীনগর ও শিমলা: খামখেয়ালি আবহাওয়া কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্ম পড়তে চলল কিন্তু এখনও বন্ধ হল না তুষারপাত। কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রদেশে প্রবল বৃষ্টি এবং তুষারপাতের ফলে বিপর্যস্ত জনজীবন। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক জনের। আটকে পড়েছেন এ রাজ্যের পর্যটকরাও।

হিমাচলে প্রবল তুষারপাত, আটক পশ্চিমবঙ্গের পর্যটক

প্রবল তুষারপাতের ফলে হিমাচল প্রদেশে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়লেন এ রাজ্যের ৭০ জন পর্যটক। কিন্নর অঞ্চলের ছিটকুলে সাইটসিয়িং-এ গিয়ে আটকে পড়েছে এই বারাসাতের এই পর্যটক দলটি। পর্যটক দলে রয়েছেন অনেক মহিলা এবং বয়স্ক ব্যক্তি। তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগী হয়েছে নবান্ন।

অসময়ের এই তুষারপাতে বিপাকে হিমাচল প্রদেশ। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টি এবং ধস। প্রবল বৃষ্টি হয়েছে শিমলা, মানালি এবং ধর্মশালায়। বৃহস্পতিবার শিমলায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, এপ্রিলের নিরিখে গত দশ বছরে যা সর্বোচ্চ। এমনকি বরফে সাদা হয়ে রয়েছে শিমলা এবং মানালির নিকটবর্তী পাহাড়গুলিও। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, “স্পিতি, চাম্বা, মান্ডি, কুলু, কিন্নর এবং শিমলা জেলার উঁচু এলাকাগুলিতে ভারী তুষারপাত হয়েছে।” আবহাওয়াজনিত কারণে রাজ্যে চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

অসময়ের এই বৃষ্টিতে রাজ্যে চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। শুক্রবার পর্যন্ত এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বন্যা পরিস্থিতি কাশ্মীরে, তুষারধসে মৃত তিন জওয়ান-সহ সাত

জলমগ্ন শ্রীনগর

২০১৪-এর সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হয়েছিল কাশ্মীর উপত্যকা। সেই স্মৃতি উস্কে ফের বন্যার মুখোমুখি শ্রীনগর এবং সংলগ্ন এলাকা। সব থেকে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল, ভরা বসন্তে এই পরিমাণ বৃষ্টি। স্থানীয়দের মতে বসন্তে কখনও এই পরিমাণ বৃষ্টি দেখেনি উপত্যকা। বৃহস্পতিবার শ্রীনগরে বৃষ্টি হয়েছিল ৮৩ মিলিমিটার। এপ্রিলের বৃষ্টির পরিমাণে যা সর্বোচ্চ। প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল কাশ্মীরের বাকি এলাকাতেও। এর ফলে ক্রমশ বাড়তে থাকে ঝিলম নদীর জলস্তর।

ঝিলম নদীর জলস্তর ১৯ মিটারে পৌঁছোনোয় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ শ্রীনগরে বন্যার সতর্কতা জারি করে প্রশাসন। এর ফলে শহরের নিচু এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে থাকেন সাধারণ মানুষ। তবে সারা রাত বৃষ্টি না হওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে নামতে শুরু করেছে ঝিলম নদীর জলস্তর। প্রয়োজনে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

তবে বৃষ্টি এবং তুষারপাতের ফলে রাজ্যে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কার্গিলে তুষারধসে প্রাণ হারান দু’জন। রাজৌরি এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় এক জনের, আরও এক জনের মৃত্যু হয় কুপওয়ারা। হড়পা বানে ভেসে যান তিনি। সেই সঙ্গে তিন জন জওয়ানেরও মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। লাডাকের বাটালিক সেক্টরে তুষারধসের ফলে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। আরও পাঁচ জন জওয়ান তুষারধসের ফলে চাপা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here