a scene from razzia film
নন্দিতা আচার্য চক্রবর্তী

ফ্রান্সের ছবি ‘লস পেরোস’। ডিরেক্টর মার্সেলা সেইডে। সময়সীমা চুরানব্বই মিনিট। চিলির মহিলা মারিয়ানা এবং তার হর্সরাইডিং ইনস্ট্রাক্টর জুয়ান। মারিয়ানা জেদি এবং বালিকার মতো আবদেরে। তার বাবা ধনী শিল্পপতি। বাবা এবং স্বামী, দু’জনের মনযোগই সে সমান ভাবে এক সঙ্গে পেতে চায়। ইনস্ট্রাক্টর জুয়ানের সঙ্গেও তার বন্ধুত্ব সমানেই গাঢ় হতে থাকে। এ দিকে দশ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক অপরাধের জন্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে অপরাধী হয়ে ওঠে জুয়ান। তার জেলে যাওয়ার পরিস্থিতি উপস্থিত হয়। মারিয়ানা বিষয়টির মধ্যে ঢুকে আসল সত্য বার করতে চেষ্টা করে। তদন্তকারী বিবাহিত পুলিশ অফিসারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয় তথ্য জানার জন্য। আসলে মারিয়ানা হচ্ছে এমন একজন মহিলা, যে সব সময় পুরুষের অ্যাটেনশন পেতে চায়। ‘লস পেরস’ এক জটিল ভালোবাসা এবং সম্পর্কের গল্প। সিনেমার শেষ দৃশ্যে ক্যামেরা এসে থেমে যায় ঘোড়ার গভীর নিঃস্পৃহ দৃষ্টিপাতের কাছে। দর্শকমনও নিজের অজান্তে ভালোবাসা ও সম্পর্কের গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খায়।

‘রদ্যাঁ’, এটিও ফ্রান্সের ছবি। ডিরেক্টর জ্যাক ডলোন। সময়কাল একশো উনিশ মিনিট। ‘রদ্যাঁ’ উনিশ শতকের এক বিখ্যাত ভাস্করের জীবনচিত্র। ডিরেক্টর নানা ভাবে কাঁটাছেড়া করেছেন ভাস্করের জীবন। তাঁর কাজ নিয়ে অবসেশন, তাঁকে ঘিরে থাকা ছাত্রছাত্রী এবং মডেলদের সঙ্গে সম্পর্ক।

তাঁর প্রেমিকা ক্লদেল-এর সঙ্গে পরিচিত হয় দর্শক। অন্য দিকে দেখা যায় তাঁর সঙ্গে অপ্রথাগত বিবাহিত রোসকে। এক সময় তাঁরা বহু দিন যৌথ শিল্পজীবন কাটিয়েছেন। রদ্যাঁ একের পর এক তাঁর মডেল এবং ছাত্রীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে গেছেন। কিন্তু তাঁর প্রকৃত ভালোবাসা ছিল ক্লদেল। বিখ্যাত প্রেমিকের ছায়ায় থেকে ক্ল দেলের নিজেস্বতা চাপা পড়ছিল। যতক্ষণ না সে পালিয়ে যায়।

a scene from film 'Rodin'
‘রদ্যাঁ’র একটি দৃশ্যে।

হেল প্রকল্পের স্মরণীয় গেটে রদ্যাঁর সৃষ্টি এবং বালজাক মূর্তি নির্মাণের সঙ্গে তাঁর  আবেগ ও ক্রমাগত কাজ… দর্শক প্রত্যক্ষ করে। প্রবল খ্যাতি-অখ্যাতির যাপন জীবনে কোথায় যেন এক ফাঁক দেখা যায়। এক আলো… অন্য রকম এক আলোর সন্ধান  করে চলেন শিল্পী… যা বোধহয় সমস্ত শিল্পী ও শিল্পের ভবিতব্য। তবু দু’ ঘণ্টার এই ছবির শেষে, বেশ কিছু না পাওয়ার হতাশা থেকেই যায়।

মরক্কোর ফিল্ম ‘রেজ্জিয়া’। ডিরেক্টর নাবেল আয়উচ। একশো নয় মিনিটের ছবিতে আমরা দেখি মরক্কোর সাধারণ জীবন এবং তার যুবসমাজ।

‘রাজ্জিয়া’ শব্দটির অর্থ অভিযান। দেখা যাক পরিচালক কী অভিযানে দর্শকদের সহ-অভিযাত্রী করলেন। এখানে যুবতী রাজ্জিয়াকে আমরা জেদি এবং তারুণ্যে ভরপুর একটি চরিত্র হিসেবে দেখি। তার পরিবার বিপর্যস্ত। বাড়ি বিক্রি করে দিতে হবে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়, রাজ্জিয়া যদি বাবা-মার নির্দেশিত এক তরুণকে বিয়ে করে। রাজ্জিয়ার প্রেম অন্য জায়গায়। সে রাজি হয় না। তার এক মাত্র ভাই বিবাহিত হয়ে অন্য এক স্থানে বসবাস করে। এই সমস্যা সমাধানে সে ভাইকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে ভাই যত সহজে নিষ্কৃতি পায়, রাজ্জিয়া তা পায় না। তার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে চলে তার বাবা-মা। সেই অবস্থায় একদিন তাকে দেখা যায় প্রেমিকের সঙ্গে নিজেই উদ্যোগী হয়ে চূড়ান্ত যৌনতা করতে।

মরক্কোর মেয়েরা গাড়ি চালাচ্ছে, চাকরি করছে, ডিস্কে যাচ্ছে, সিগারেট ফুঁকছে, তারা সমাজে যথেষ্ট ডমিনেটেড। তাই বিপর্যয়ের সময় স্যাক্রিফাইস করতে পরিবারের মেয়েকেই চাপ দেওয়া হয়। বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ গ্রহণ করে যখন রাজ্জিয়া বলতে চায়, তাদের ঠকানো হচ্ছে;  দাড়িওলা ধর্মগুরু এবং নিজের মায়ের কাছেও সে প্রবল ধমক খায়। তবে ফিল্মের শেষে দেখা যায় পরিবারের সঙ্গে রাজ্জিয়া একটা বোঝাপড়া। বাবা-মার স্নেহ স্বাচ্ছন্দ্য সে এড়াতে পারে না।

ব্যাক গ্রাউন্ডে আজানের সুর এবং মরক্কোর সমাজের এই টুকরো ছবি – শেষ পর্যন্ত দর্শকদের আনন্দই দেয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here