police investigation at anuvab

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : হোমের দেওয়াল টপকে পালাল পাঁচ কিশোরী। ঘটনায় হতভম্ব জলপাইগুড়ির ‘অনুভব’ হোম কর্তৃপক্ষ। রবিবার সন্ধ্যায় প্রাথর্নার সময় হোম কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে, আবাসিক কিশোরীদের মধ্যে পাঁচ জন উধাও। এর পরেই তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। খবর পেয়েই তল্লাশিতে নেমে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। এক টোটোচালকের সাহায্যে হোম থেকে সামান্য দূরে জেওয়াইএমএ ময়দান থেকে এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু বাকি চার কিশোরীর খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। ডিএসপি (সদর) মানবেন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তাদের খোঁজে জলপাইগুড়ি শহর থেকে বের হওয়ার সমস্ত রাস্তায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। লুকিয়ে থাকার মতো সম্ভাব্য কিছু জায়গাতেও নজরদারিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

anubhab home
‘অনুভব’ হোম।

এ দিকে যে হেতু ‘অনুভব’ হোমটি মেয়েদের, তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘটনায় জনমানসে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ পালিয়ে যাওয়া কিশোরীদের নিরাপত্তার বিষয়টি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আলো’র দিকে এগিয়ে চলেছেন জলপাইগুড়ির ‘অনুভব’ আর ‘নিজলয়’-এর মেয়েরা

হোম থেকে আবাসিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ছেলেদের হোম ‘কোরক’ থেকে ঘরের দেওয়াল ভেঙে আট আবাসিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল গত মে মাসে। জলপাইগুড়ির মেয়েদের আরও একটি হোম ‘নিজলয়’ থেকেও কিশোরী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েক বার। পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর কোনো কোনো সময় হোমগুলির অব্যবস্থার দিকে যেমন অভিযোগ উঠেছে, তেমনি দেখা গিয়েছে, কোনো কারণ ছাড়াই শুধুমাত্র চার দেওয়ালের বন্দিদশা কাটাতেই অনেক আবাসিক পালিয়েছে।

যদিও ‘অনুভব’ হোমটি নিয়ে এত দিন এমন কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালিত সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এই হোমটির সুনাম রয়েছে। এখানে বর্তমান আবাসিক সংখ্যা ৫৩। এঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে হোমেই রয়েছেন। পড়াশোনা বা হাতের কাজ শিখে স্বনির্ভর হয়েছেন অনেকে। তাঁরা কর্মসূত্রে অনেকেই বাইরে বা স্কুলে যাতায়াত করেন। হোমের কো-অর্ডিনেটর দীপশ্রী রায় জানিয়েছেন, গত ১৩ বছরে এ রকম ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন: হোমের দেওয়াল ভেঙে, পাঁচিল টপকে পালাল ৮ কিশোর, উদ্ধার ৩

প্রশ্ন উঠেছে সেখানেই, তা হলে আজ হঠাৎ এমন কী হল? হোম কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে, যে পাঁচ কিশোরী পালিয়েছিল তারা খুব সম্প্রতি হোমে এসেছিল। এদের মধ্যে দু’জন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। বাকি তিন জন বাল্যবিবাহের ঘটনায় যুক্ত। তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, পরে বিয়ে করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এবং হোমে ঠাঁই হয়। তিন দিন আগেই এ রকম এক কিশোরীকে আনা হয় হোমে। হোম কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, তার বুদ্ধিতেই অন্যরা এই কাজ করেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই ঘটনায় ওই কিশোরীর প্রেমিকও যুক্ত থাকতে পারে। হোমের কারও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পালানোর ছক কষা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। যে কিশোরীকে উদ্ধার হয়েছে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

broken fencing of the home
পেছনের এই টিনের বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায় কিশোরীরা।

সন্ধ্যায় পালানোর খবর জানাজানি হওয়ার পর খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায় হোমের পেছন দিকের টিনের বেড়া ভাঙা। তার পেছনেই রয়েছে হোমের প্রাচীর। টিনের বেড়া ভেঙে প্রাচীর টপকেই পালিয়েছে ওই পাঁচ কিশোরী তাতে নিশ্চিত হোম কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। মেয়েদের হোম হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য সেখানে সর্বক্ষণ মহিলা হোমগার্ড দেওয়া হয়েছে পুলিশের তরফে। তাদের নজর এড়িয়ে পাঁচ-পাঁচটি মেয়ে কী ভাবে পালিয়ে গেল প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। হোমের কো-অর্ডিনেটর দীপশ্রী রায় জানিয়েছেন, তাদের হোমে অব্যবস্থার কোনো অভিযোগ নেই, আজকের ঘটনায় তাঁরাও হতচকিত। ঘটনার তদন্তে জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্যরাও হোমে যান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here