নয়াদিল্লি : দাবি একটা করে দিলেই হল, যাচাই করছে কে ১৩০ কোটির এই দেশে!

বিমুদ্রাকরণ কার্যকর হওয়ার ৪০ দিনের মাথাতেই সরকারের স্বপ্নের শতকরা ৭০ ভাগ সত্যি হয়ে গেল! তেমনটাই দাবি করেছে ভারত সরকার। সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক থেকে প্রকাশ করা পরিসংখ্যান বলছে, গ্রামীণ ভারতের ৭০ শতাংশ মানুষ আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যবহার করছে ডিজিটাল পদ্ধতি। যদিও আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সে কথা বলে না।  

কেন্দ্রের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, গ্রামের ৮৫ শতাংশ ব্যবসায়ী লেনদেনের জন্য বিকল্প ডিজিটাল ব্যবস্থা রাখছেন। ১৬ শতাংশ গ্রামবাসী নাকি ইতিমধ্যে ইউপিআই (ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস) এর মাধ্যমে লেনদেনে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্রের বৈদ্যুতিন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব অরুণা সুন্দররাজন জানিয়েছেন, দেশ জুড়ে ২৫ লক্ষ গ্রামীণ নাগরিক ‘কমন সার্ভিস সেন্টার নেটওয়ার্ক’-এ নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে।

গত মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের কাছে নোট বাতিল নীতির ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। চন্দ্রবাবু বলেন, সংকটজনক পরিস্থিতির শেষ কোথায়, তিনি নিজেই আন্দাজ করতে পারছেন না। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে আরও কিছু জায়গায়। দেশকে নগদহীন অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী ক’দিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন, গ্রামের মানুষকে সরকার থেকেই দেওয়া হবে স্মার্টফোন। কিন্তু কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তো বলছে গ্রামের ৭০ শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যেই স্মার্টফোন ব্যবহারে বেশ সড়গড়, কারণ সাধারণত ডিজিটাল লেনদেনের জন্য তো স্মার্টফোনের প্রয়োজনই বেশি হয়।

সমালোচকরা বলছেন, গ্রামীণ ভারতের স্বাক্ষরতার হার যেখানে ৭০ শতাংশে পৌঁছোয়নি, সেখানে এই পরিসংখ্যান অর্থহীন। তাঁদের প্রশ্ন, গ্রামের ৭০ শতাংশ মানুষই যদি ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে যান, তা হলে শহরের পরিসংখ্যানটা কত? সেটা কি ১০০ শতাংশ? তা হলে তো গোটা দেশ ডিজিটাল হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে! 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here