hadiya

কোচি: বাপের বাড়ির বন্দিদশা থেকে অবিলম্বে তাঁকে মুক্ত করার আবেদন জানালেন হাদিয়া। তাঁর করুণ আর্জি, তাঁকে অবিলম্বে বের করে নিয়ে যাওয়া না হলে তিনি খুন হয়ে যাবেন। তাঁর বক্তব্য সংবলিত একটি ছোটো ভিডিও বৃহস্পতিবার কোচিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পেশ করেন সামাজিক কর্মী রাহুল ঈশ্বর।

আরও পড়ুন: ‘লাভ জিহাদ’: এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন নেই, সুপ্রিম কোর্টকে বলল কেরল

হাদিয়াকে মনে আছে, ধর্মান্তরের আগে যিনি ছিলেন অখিলা অশোকান, যিনি ধর্মান্তরিত হয়ে কোল্লমের মুসলিম যুবক সুফিন জহাঁকে বিয়ে করে কেরল জুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন? যে বিয়েকে রাজ্যের দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলো ‘লাভ জিহাদ’ আখ্যা দিয়েছে। অখিলার বাবা এই বিয়ে মেনে নেননি। তাই এই বিয়ের জল গড়ায় কেরল হাইকোর্ট ছাড়িয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।

গত মে মাসে কেরল হাইকোর্ট এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তে হাদিয়া-সুফিনের বিয়ে রদ করে দেয়। হাদিয়ার বাবার আর্জি ছিল, তাঁর মেয়েকে আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে কেরল থেকে উধাও হয়ে যাওয়া ২১ জন ইসলামি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। হাইকোর্ট হাদিয়াকে তাঁর বাবার হেফাজতে পাঠিয়ে দেয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুফিন জহাঁ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ তাদের ১৬ আগস্টের রায়ে হাইকোর্টের নির্দেশ রদ করতে অস্বীকার করে বিয়ে নিয়ে তদন্তের ভার এনআইএ-কে দেয়। কিন্তু পরে ৭ অক্টোবর শীর্ষ আদালতের আরেকটি বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, হাদিয়া ও সুফিনের আন্তঃধর্ম বিবাহ রদ করার কোনো অধিকার কেরল হাইকোর্টের নেই। পরে কেরল সরকারও সুপ্রিম কোর্টে তাদের হলফনামায় জানিয়ে দেয়, দু’ জনের বিয়ে নিয়ে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্তের কোনো প্রয়োজন নেই। আপাতত এই মামলা সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন।

ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়ে পড়ল হাদিয়ার আর্জি সমেত ভিডিওটি। হাদিয়া বলেছেন, “আপনারা আমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে চলুন। আমি নিশ্চিত কাল বা যে কোনো দিন আমাকে মেরে ফেলা হবে। আমি জানি, আমার বাবা আমার ওপর রেগে রয়েছে। আমি যখন হাঁটাহাঁটি করি, বাবা আমাকে ঠেলে দেয়, লাথি মারে। আমার মাথা বা শরীরের কোনো অংশ যদিও কোথাও ধাক্কা লাগে এবং আমি মরে…।”

আরও পড়ুন: কেরল ‘লাভ জেহাদ’: বিয়ে খারিজ সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট

আর শোনা যায় না হাদিয়ার গলা। ভিডিও অসম্পূর্ণ। কোট্টয়ম জেলার ভাইকমে হাদিয়ার বাপের বাড়িতে গত ১৭ আগস্ট এই ভিডিও করা হয়েছে। রাহুল ঈশ্বর বলেন, তাঁর কাছে হাদিয়ার আরও অনেক ফুটেজ আছে, কিন্তু তা প্রকাশ করা যাবে না। কারণ তাতে সাম্প্রদায়িক কথা আছে। ২৪ বছরের মানুষটির করুণ অবস্থার প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই ভিডিও প্রকাশ করা হল বলে রাহুল জানান।

আগামী ৩০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে হাদিয়ার মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here