নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: আন্দোলন নিয়ে দিনভর টানাপোড়ন। শুক্রবার বিকেলে কো কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশ। অবশেষে আপাতত পিছু হটতে বাধ্য হল বন দফতর এবং পুর্ত দফতর। আদালতের রায়কে কুর্নিশ পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির।

রেলপথের ওপর দিয়ে উড়ালপুল তৈরি করবে পুর্ত দফতর। তাই লাটাগুড়িতে গরুমারা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনাঞ্চলের অসংখ্য গাছ কেটে ফেলার কাজ শুরু করেছিল জলপাইগুড়ি বনবিভাগের বন উন্নয়ন নিগম। এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি। প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল তারা। পাশে ছিলেন স্থানীয় বনবস্তিবাসীরা। সংঘাত এই পর্যায়ে পৌছোয় যে বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করে থানায় আটকে রেখে তিনশোর বেশি গাছ কেটে ফেলে বন দফতর। রাতে তাঁদের জামিনে ছাড়া হয়।

সকাল হতেই ফের লাটাগুড়ির নেওড়া মোড়ে অবস্থান-বিক্ষোভে বসে গরুমারা বনাঞ্চল পরিবেশপ্রেমী যৌথমঞ্চ। হঠাৎ করেই জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার নিমা নরবু ভুটিয়ার নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‍্যাফ গিয়ে তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেয়। কিছুটা দূরে ক্রান্তিমোড়ে ফের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন যৌথমঞ্চের ৪০ জন সদস্য। পুলিশি পাহারায় তখনও চোখের সামনেই চলছে একের পর এক গাছ কেটে ফেলার কাজ। এর মধ্যেই স্বস্তির খবর এসে পৌঁছোয় আন্দোলনকারীদের কাছে। শুক্রবার সকালেই কলকাতা উচ্চ আদালতে গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছিলেন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির আইনজীবী সিদ্ধার্থ মিত্র এবং বরুণ কেডিয়া। বিকেল নাগাদ বিচারপতি নিশীথা মাত্রে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ আগামী সোমবার পর্যন্ত গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশের নির্দেশ দেন। এই খবর পৌঁছোতেই খুশিতে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। শুরু হয়ে যায় অকাল হোলি। আদালতের নির্দেশে দৃশ্যতই খুশি মামলাকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে জানিয়েছেন, গণহারে গাছ-হত্যার পরিকল্পনা রুখতে আদালতের এই নির্দেশ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক অনির্বাণ মজুমদার জানিয়েছেন, এটা তাঁদের জয়ের প্রথম পদক্ষেপ। এ দিকে আদালতের নির্দেশ নিয়ে কিছু বলতে চায়নি জলপাইগুড়ি পুর্ত দফতর। যদিও বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে বিকেলেই গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার ফের কলকাতা উচ্চ আদালতে শুনানির পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার ফের এই বিষয়ে শুনানি রয়েছে উচ্চ আদালতে। রাস্তার আন্দোলন হয়তো এ বার কোর্টরুমে। একটা গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তও বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ইতিউতি পড়ে থাকা কাটা গাছগুলি যে আর মাথা তুলে দাঁড়াবে না, তা তো সকলেরই জানা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here