accused ashok thakur
হত্যায় অভিযুক্ত কন্ডাক্টর অশোক ঠাকুর।

গুড়গাঁও (হরিয়ানা): হরিয়ানা পুলিশ ও রায়ান স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিলেন ধৃত বাস কন্ডাক্টর অশোক কুমার।

আরও পড়ুন : প্রদ্যুমন হত্যা : গা বাঁচাতেই কি বাস কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ

শুক্রবার অশোক কুমার বলেন, তাঁকে বলির পাঁঠা করা হয়েছে। তাঁর ওপর অত্যাচার করা এবং তাঁর মানহানি করার দায়ে তিনি হরিয়ানা পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

গুড়গাঁওয়ের রায়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আট বছরের ছাত্র প্রদ্যুমন ঠাকুরকে যৌন নিগ্রহ ও হত্যার অভিযোগে বাস কন্ডাক্টর অশোক কুমারকে গ্রেফতার করা হয়। অশোক কুমারের কৌঁসুলি রোহতকের মোহিত ভার্মা বলেছেন, আসল অপরাধীকে আড়াল করার জন্য তাঁর মক্কেলকে বলির পাঁঠা করা হয়েছে।

প্রদ্যুমনকে হত্যা করার অভিযোগে ওই স্কুলেরই একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে সিবিআই গ্রেফতার করার পরের দিনই মোহিত ভার্মা এই মন্তব্য করেন। ভার্মা বলেন, “এই মামলায় সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। সিবিআই রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেই আমরা অশোক কুমারের মানহানি নিয়ে মামলা দায়ের করব।”

বুধবার সিবিআইয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাঁরা কুমারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাননি। কোনো যৌন নিগ্রহেরও প্রমাণ নেই। যে সিসিটিভি ফুটেজকে হরিয়ানা পুলিশ অস্পষ্ট বলে বাতিল করে দিয়েছিল, সেই ফুটেজ দেখেই সিবিআই এই সিদ্ধান্তে এসেছে বলে ভার্মা জানান।

আরও পড়ুন: প্রদ্যুমন হত্যা মামলায় একাদশ শ্রেণির ছাত্র গ্রেফতার, পরবর্তী শুনানি শনিবার

কৌঁসুলি বলেন, যে অপরাধ অশোক কুমার করেননি, সেই অপরাধ সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁকে দিয়ে কবুল করানো হয়েছে। তাঁর মক্কেলকে ওষুধ খাইয়ে এবং অত্যাচার করে পুলিশ এই কাণ্ড করেছে।

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ তদন্তটা পুরো সাজিয়েছে। প্রদ্যুমনকে হত্যা করার পেছনে অশোক কুমারের কোনো উদ্দেশ্যই খুঁজে পায়নি সিবিআই। কিন্তু তারা ধৃত একাদশ শ্রেণির ছাত্রটির কাজের পেছনে উদ্দেশ্যটি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। পুলিশ এক জন নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়েছে। কারা পুলিশের ওপরে চাপ সৃষ্টি করেছিল সেটা তদন্তের বিষয়। কিন্তু অশোকের ওপর যা হয়েছে তা অত্যাচারের শামিল।”

মজার কথা হল, প্রদ্যুমন ঠাকুরকে হত্যার দায়ে অশোক কুমারকে গ্রেফতারের পরে পরেই গুড়গাঁওয়ে সোহনার বার কাউন্সিল যৌথ প্রস্তাব পাস করে জানিয়েছিল, তারা অশোক কুমারের হয়ে মামলা লড়বে না। তার পরেই অশোকের পরিবার মোহিত ভার্মাকে কৌঁসুলি করে।

১৬ বছরের ধৃত ছাত্রটি তার বাবা এবং নিরপেক্ষ সাক্ষীর সামনে তার অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জুভেনাইল কোর্টে সিবিআই জানিয়েছে। ওই ছাত্রকে তিন দিনের জন্য সিবিআই হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here