নয়াদিল্লি: দলাই লামার অরুণাচল সফর এবং আরও বেশ কয়েকটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত এবং চিনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন তলানিতে। কিন্তু মানবিকতার অসামান্য উদাহরণ সৃষ্টি করল দু’দেশের নৌ-বাহিনী। তাদের যৌথ উদ্যোগে জলদস্যুদের কবজা থেকে মুক্ত হল একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।

মালয়েশিয়া থেকে ইয়েমেনের আদেন বন্দরে উদ্দেশে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে শনিবার রাতে ছিনতাই করে সোমালি জলদস্যুরা। আদেন উপসাগর এবং আশেপাশের অঞ্চলে জাহাজের গতিবিধির ওপর নজর রাখা ব্রিটেনের মেরিটাইম বাণিজ্য সংস্থাকে (ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অর্গানাইজেশন) একটি বিপদ সংকেত পাঠায় ১৯ জন ফিলিপিনো নাবিকবিশিষ্ট এই জাহাজটি। এই সংস্থার ডাকে সাড়া দিয়েই উদ্ধারে নামে ভারত এবং চিনা নৌবাহিনী।

আইএনএস মুম্বই এবং আইএনএস তারকাশ নামক দু’টি যুদ্ধজাহাজ পাঠায় ভারত, অন্য দিকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহক জাহাজ ইউলিনকে পাঠায় চিন। এক দিকে হেলিকপ্টার মারফৎ আকাশপথে নজরদারি চালায় ভারতের নৌবাহিনী, অন্য দিকে ওই জাহাজের মধ্যে ঢুকে নিরাপদে নাবিকদের উদ্ধার করে আনে চিনা নৌবাহিনী। বিপদসংকেত পেয়ে কাছাকাছি এসে গিয়েছিল ইতালীয় এবং পাকিস্তানে নৌবাহিনীও।

তবে উদ্ধারকাজ চালানোর সময়ে ওই জাহাজের ভেতরে কোনো জলদস্যু ছিল না। মনে করা হচ্ছে ভারত এবং চিনা যুদ্ধজাহাজের আসার খবর পেয়েই পালিয়ে যায় জলদস্যুরা।

ভারতের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ডিকে শর্মার কথায়, “ছিনতাইবাজের বিরুদ্ধে ভারত এবং চিনের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতায় নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন ওই বাণিজ্যিক জাহাজের সব নাবিক।” উদ্ধারকার্য সফল ভাবে শেষ হওয়ার পর ভারতের নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে চিনা নৌবাহিনী। প্রত্যুত্তরে তাদের ধন্যবাদ জানায় ভারতও। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করার জন্য ভারত এবং চিনের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here