uttar pradesh

সাহারানপুর (উত্তরপ্রদেশ): পুলিশের অমানবিকতা হয়তো আগেও দেখা গিয়েছে, কিন্তু উত্তরপ্রদেশ পুলিশ যেটা করল তার নজির হয়তো আর একটাও পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র নিজেদের গাড়িতে রক্তের দাগ লেগে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে দুই রক্তাক্ত তরুণকে গাড়িতে তুলতে অস্বীকার করল পুলিশ। সবার চোখের সামনেই প্রাণ গেল দুই তরুণের।

এই ঘটনার ওপরে একটি ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বছর ১৭-এর দুই তরুণ অর্পিত খুরানা এবং সানি রাস্তার ওপরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাশে পড়ে রয়েছে একটি মোটরবাইক। সম্ভবত মোটরবাইক দুর্ঘটনাতেই আহত হয়েছে ওই দু’জন। তরুণদের ঘিরে রেখেছে মানুষ, রয়েছে পুলিশও। কিন্তু ওই দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে বারবার অনুরোধ করা হলেও, তাঁরা কোনো কর্ণপাতই করছেন না।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি এক পুলিশকর্মীকে বলছেন, “ওরাও তো কারও সন্তান। দয়া করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।” আরেক জন বলছেন, “এখানে কারও কোনো গাড়ি নেই। ওদের নিয়ে যান দয়া করে।”

জবাবে এক পুলিশকর্মী বলছেন, “আমাদের গাড়িতে রক্তের দাগ লেগে যাবে।” পুলিশের থেকে কোনো সাহায্য না পেয়ে কয়েক জন রাস্তা দিয়ে যাওয়া গাড়িকে থামানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু কেউ দাঁড়াচ্ছে না।

“আপনার গাড়িতে লাগা রক্তের দাগ ধুয়ে ফেলা যাবে।” পুলিশকর্মীকে একজন এই অনুরোধ করলেও, তাতেও বিশেষ লাভ হল না। উলটে এক পুলিশকর্মী বললেন, “গাড়ি যদি ধোয়া হয় তা হলে আমরা কোথায় বসব সারা রাত।”

একটু পরে আরেকটা পুলিশ ভ্যান এলে ওই দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হল, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে যেতেই দু’জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনা চাউর হতেই শোরগোল লেগে গিয়েছে। মুখ পুড়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি আনন্দ কুমার বলেছেন, “ওই পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ রকম অমানবিকতা এবং নির্মমতা কখনোই সহ্য করা হবে না।” তবে ওই পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা করা হবে কি না সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি।

পুলিশের এই অমানবিতায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মৃত তরুণ সানির পরিবারের লোকজন। তার এক আত্মীয়ের কথায়, “পুলিশ সাধারণ মানুষকে কতটা সাহায্য করে, এই ব্যাপারে বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে গোটা রাজ্যে। আমার প্রশ্ন হল এখানে সানির বদলে যদি কোনো পুলিশকর্মীর ছেলে থাকত তা হলে কি পুলিশ এই অমানবিকতা দেখতে পারত।”

দেখুন এনডিটিভিতে প্রকাশিত হওয়া সেই ভিডিও-

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন