নার্সিংহোমে গাফিলতিতে মৃত্যু, তদন্তকারী দলের জেরা শুরু জলপাইগুড়িতে

0

আরও পড়ুন: নার্সিংহোমে গাফিলতিতে মৃত্যু: নতুন করে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের গত ১১ এপ্রিল শহরের মেরিনা নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রেসকোর্স পাড়ার বাসিন্দা মীনা ছেত্রীর। তাঁর পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়, ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপ থাকায় মীনাদেবীর মৃত্যু হয়েছে। ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপ থাকার কথা তাঁদের কাছে চেপে গিয়েছিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, এই অভিযোগ তোলেন মৃতার ছেলে রাজেশ ছেত্রী। কোতোয়ালি থানা এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি অভিযোগ জমা পড়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। স্বাস্থ্য দফতরের তদন্ত নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে যায়। পুলিশ ২০১৭-এর ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট আইনের পাশাপাশি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা) জুড়ে দিয়ে মামলাটি জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠায়। সেখানে নার্সিংহোম মালিক, চিকিৎসক-সহ পাঁচ জনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারক জয়মাল্য বাগচী ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিসকে নির্দেশ দেন তদন্তের জন্য। তবে প্রথম বার তাদের দেওয়া মৌখিক রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হওয়ায় ফের নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। যে হেতু ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপের অভিযোগ উঠেছে, তাই ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দলে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মতোই রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তার অধীনে তিন জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। সেই দলটিই আজ জলপাইগুড়ি আসে। [caption id="attachment_56741" align="aligncenter" width="892"]husband and two sons of the deceased মৃতার স্বামী ও দুই ছেলে।[/caption] দলে ডাঃ এ সি মণ্ডল, ডাঃ রজত চক্রবর্তী এবং ডাঃ সুমনসশীল পাইন রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পর মৃতার ছেলে রাজেশ ছেত্রী জানিয়েছেন, সমস্ত অভিযোগ তদন্তকারী দলের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। হাইকোর্টের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে। তবে প্রয়োজনে শীর্ষ আদালতে যেতেও তাঁরা পিছপা হবেন না, জানিয়েছেন মৃতার ছেলে। এদিকে নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তকারী দলকে সমস্ত তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। আগামীকাল এই দলটি মেরিনা নার্সিংহোম পরিদর্শনে যাবেন। সূত্রের খবর, একাধিক চিকিৎসক-সহ আরও বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। আজ জেলা স্বাস্থ্য দফতরে গিয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকারের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের করা প্রাথমিক তদন্তের নথি সংগ্রহ করেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার হাল ফেরাতে আইনে সংশোধনী এনে নতুন ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট ২০১৭ পাশ করিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনো নার্সিংহোম এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সম্ভবত এই প্রথম নতুন আইনে মামলা হওয়ায় এই ঘটনা শোরগোল ফেলেছিল রাজ্য জুড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ এর বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন জলপাইগুড়িতে। স্বাভাবিক ভাবেই এই মামলার শেষ পরিণতি কী হয় তার দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য।]]>

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here