চেন্নাই: ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে দেওয়ার মঞ্চ তৈরি ছিল ঘরের ছেলে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের জন্য, সেই মঞ্চে আবির্ভাব ঘটল রবীন্দ্র জাদেজার। তাঁর সাতটি শিকারের সৌজন্যে মাত্র দেড়খানা সেশনে শেষ হয়ে গেল ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে রেকর্ড বইয়ে ঢুকলেন বিরাট কোহলি। এমন একটি রেকর্ড যা করতে পারলে নিঃসন্দেহে খুশি হতেন তাঁর পূর্বসূরি অধিনায়করা। শেষ বার ভারত টেস্ট ম্যাচ হেরেছিল গত বছর আগস্টে। তার পর কেটে গিয়েছে এক বছর চার মাস, হয়েছে ১৮টি টেস্ট, ভারত কিন্তু এখনও অপরাজিত। টেস্ট ইতিহাসে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ অপরাজেয় ধারা।

এই সিরিজ শুরু হওয়ার আগে প্রিভিউতে আমরা লিখেছিলাম কতটা বিশ্রী ভাবে সিরিজ হারবে ইংল্যান্ড। বিগত কিছু পারফরম্যান্স, বিশেষ করে বাংলাদেশে টেস্ট ম্যাচ হারের পরিপ্রেক্ষিতে এমন ভবিষ্যদ্বাণীই করতে হয়েছিল। তবে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের প্রদর্শন সব হিসেবকে ওলটপালট করে দেওয়ার তালে ছিল। ওই টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে বিরাট কোহলি খেলা না ধরলে হেরেও যেতে পারত ভারত। ব্যস, ওটাই ছিল সিরিজে একমাত্র ইংল্যান্ডীয় মুহূর্ত। বাকি চারটি টেস্টেই তাদের পিষে ফেলল ভারত।

সিরিজের শেষ দু’টি টেস্টে তো প্রথম ইনিংসে ভারতকে রীতিমতো চাপে ফেলে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেও তার ফায়দা তুলতে ব্যর্থ কুকবাহিনী। মুম্বই টেস্টে ৪০০ তুলেও বিরাট কোহলি নামক এক ‘ভিন্ন গ্রহ’-এর ব্যাটসম্যানের পাল্লায় পড়ে পর্যুদস্ত হওয়ার পর, চেন্নাই টেস্টে তারা পড়ল রবীন্দ্র জাদেজার সামনে।

পঞ্চম দিন প্রথম সেশন দেখে মনে হয়েছিল এই টেস্ট বাঁচিয়ে দেবে ইংল্যান্ড। ওপেনিং পার্টনারশিপ শতরান পেরিয়ে গেছে। এই মুহূর্তেই জাদেজার আবির্ভাব। বিনা উইকেটে ১০৩ থেকে ২০৭ অলাউট। ৪৮ ওভারে মাত্র ১০৪ রান করে সবক’টি উইকেট হারাল তারা। দুই ওপেনার ছাড়া বলার মতো রান করেছেন শুধু মঈন আলি।

ক্রিকেটে যদি জোড়া ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরষ্কার দেওয়ার নিয়ম থাকত তা হলে কী ভালোটাই না হত! দুই ইনিংসে দশ উইকেট, সঙ্গে ব্যাট হাতে অর্ধশতরান করেও শুধু মাত্র করুন নায়ারের তিনশোর জন্য ম্যাচের সেরার পুরষ্কার পাওয়া হল না জাদেজার। কিন্তু আদতে করুন নয়, ইংল্যান্ড হারল জাদেজার কাছেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here