arrested jail warder
অভিযুক্ত কারারক্ষী।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: গ্রেফতার কারারক্ষী। অভিযোগ বিচারাধীন বন্দির পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার।

ঘটনাচত্বর জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। সংশোধনাগারে বন্দি এক অভিযুক্ত পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিতে গিয়ে আইনজীবী এবং আদালতের কর্মীদের হাতে ধরা পড়ে যান ফিরোজ আলম নামে ওই কারারক্ষী। তিনি জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে কর্মরত। সংশোধনাগারগুলির বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যেই নানা রকম অভিযোগ ওঠে। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে এ হেন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

গত ৩ নভেম্বর চোরাই বেতের কারবার করার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন শিলিগুড়ি সংলগ্ন ভক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মুকুন্দ বর্মণ। জলপাইগুড়ি আদালতের নির্দেশে তাঁর জেল হেফাজত হয়। জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে পাঠানো হয় তাঁকে। অভিযোগ, পরের দিন সংশোধনাগারের কারারক্ষী পরিচয় দিয়ে মুকুন্দবাবুর বাড়িতে ফোন যায়। বলা হয়, সংশোধনাগারে মুকুন্দবাবুকে ভালো ভাবে রাখার জন্য, ভালো খাওয়া, বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দেওয়া হলে জেলে মুকুন্দবাবুর ‘অসুবিধে’ হতে পারে বলে হুমকিও দেওয়া হয়, জানিয়েছেন মুকুন্দবাবুর এক আত্মীয় (ভায়রাভাই) গোবিন্দ বর্মণ। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মুকুন্দবাবুর পরিবার। একে পরিবারের কর্তা জেলবন্দি, তায় এ হেন হুমকির মুখে পড়ে অসহায় হয়ে টাকা দিতে রাজি হন তাঁরা।

এর পর ফোনে দেওয়া নির্দেশমতো লোক পাঠিয়ে মুকুন্দবাবুর বাড়ি গিয়ে তিন হাজার টাকা নিয়ে আসা হয়। শুক্রবার আদালতে মুকুন্দবাবু জামিন পান। শনিবার তাঁর সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার কথা। সেটা জানতে পেরে গত কাল ফের এক কারারক্ষী বাকি দু’ হাজার টাকা চেয়ে ফোন করেন। আইনজীবীর কাছ থেকে জামিনের নথিপত্র নিতে শনিবার দুপুরে জলপাইগুড়ি আদালতে আসেন মুকুন্দবাবুর ছেলে,শালী ও ভায়রাভাই। তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ফিরোজ আলম নামে এক কারারক্ষী সাদা পোশাকে আদালতে আসেন। তাঁদের কাছ থেকে বাকি দু’ হাজার টাকা চান। তত টাকা মুকুন্দবাবুর বাড়ির লোকেদের কাছে ছিল না। তখন সেই কারারক্ষী যা আছে তা-ই দিতে বলেন। সেই সময় টাকা দিতে গেলে মুকুন্দবাবুর আইনজীবী অনিন্দ্য মুন্সি ও তাঁর মুহুরি সেখানে চলে আসেন এবং হাতেনাতে ওই কারারক্ষীকে ধরে ফেলেন।

আদালতের অন্য আইনজীবীরাও সেখানে চলে আসেন। ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযুক্ত কারারক্ষীকে দু-একটা চড়চাপড়ও মারেন উপস্থিত জনতা। খবর যায় কোতোয়ালি থানায়। থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার এসে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যান। মুকুন্দবাবুর আইনজীবী অনিন্দ্য মুন্সি জানিয়েছেন, টাকা না দিলে তাঁর মক্কেলকে জেলের ভেতর মারধর করার ভয় দেখানো হয়েছিল। তাই ভয় পেয়ে টাকা দিতে রাজি হয় মুকুন্দ বর্মণের পরিবার।

যদিও তার পরও নাটক চলতে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে ময়নাগুড়ি থেকে এসে উপস্থিত হয় অভিযুক্ত কারারক্ষী ফিরোজ আলমের স্ত্রী ও পরিবারে অন্যরা। তাঁরা অভিযোগকারী মুকুন্দবাবুর আত্মীয়দের ঘটনাটি নিয়ে একটা ‘সমঝোতা’য় আসার কথা বলেন। কিন্তু আদালতের আইনজীবীদের সুপরামর্শে শেষ পর্যন্ত ‘সমঝোতা’র লোভনীয় প্রস্তাবে ‘না’ করে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা। রাতেই আটক ফিরোজ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। আগামী কাল তাঁকে আদালতে তোলা হবে। জলপাইগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অভিজিৎ সরকার জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। তবে আজ হাতেনাতে তা ধরা পড়ল। এই ঘটনার সুরাহা হওয়া উচিত, দাবি তাঁর।

তবে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে। এখন দেখার, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী বিভাগীয়  ব্যবস্থা নেয় তারা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here