doctor on hunger strike
তখন অনশনে। মঙ্গলবার সকালে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দিনভর টানাপোড়েন চলল চিকিৎসক কুমার অতনুর অনশন নিয়ে। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৭টা নাগাদ অনশন তুলে নেন চিকিৎসক অতনু। বিধায়ক তথা জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর অনুরোধে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী গৌতম দাস ৭টা নাগাদ অনশন মঞ্চে আসেন। তাঁর অভিযোগগুলি শুনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর পরেই গৌতম দাসের হাত থেকে ফলের রস খেয়ে অনশন ভঙ্গ করেন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের ওই চিকিৎসক।

আরও পড়ুন চোর না খুনি? অপবাদ এড়াতে সব চিকিৎসকের হয়ে আমরণ অনশন জলপাইগুড়ির অতনুর

সোমবার রাত নটা নাগাদ হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে অনশনে বসে পড়েন কুমার অতনু নামে ওই চিকিৎসক। তিনি জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে কর্মরত। শহরের শিল্পসমিতি পাড়ায় প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে অনশন শুরু করেন।

মেরিনা নার্সিহোমে চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগিণী মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেণ্ট অ্যাক্ট এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ নং ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এ ছাড়াও এক বন্ধুর কাছে ১০ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ তুলে কিছু দিন আগে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন তিনি। চিকিৎসকের অভিযোগ, তাকে ‘খুনি’ এবং ‘চোর’ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাঁর সঙ্গে নয়, রাজ্যের সর্বত্রই চিকিৎসকদের সঙ্গে অবিচার হচ্ছে। অথচ স্বাস্থ্য দফতর বা অন্য কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তাই সব চিকিৎসকদের হয়েই তাঁর এই প্রতিবাদ, জানিয়েছিলেন কুমার অতনু। গরিবদরদী বলে পরিচিত ওই চিকিৎসকের অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শহরের মানুষের মধ্যে আলোড়ন তৈরি হয়।

তাঁর অনশনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আসেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা:জগন্নাথ সরকার। আসেন উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (১) ডাঃ আর কে  ঈশ্বরারী। তাঁরা দু’জনেই কুমার অতনুর অভিযোগুলি শোনেন। অনশন তুলে নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন দু’জনেই। যদিও অনশন তুলতে রাজি হননি তিনি।

অনশনরত চিকিৎসকের পাশে এসে দাঁড়ান স্থানীয় বাসিন্দারা। সহেলি মহিলা সমিতিও মঞ্চে তার পাশেই ছিল। গরিবদরদী চিকিৎসকের পাশেই তাঁরা থাকবেন এমনটাই জানিয়েছেন অজয় শা নামে শহরের এক নাগরিক।

তবে ঘটনাচক্রে যে চিকিৎসকদের হয়ে লড়াই করতে নেমেছেন, তাঁদের অধিকাংশকেই তিনি সে ভাবে পাশে পাননি, অভিযোগ খোদ কুমার অতনুর। যদিও তাঁর সহকর্মী এক চিকিৎসক কমলেশ বিশ্বাস সোমবার রাতে এসেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলেও তিনি এবং আরও কয়েক জন সহকর্মী চিকিৎসক আসেন অনশনমঞ্চে। প্রত্যেকেই তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেন।

ফোনে বিধায়ক এবং এসেজেডিএ চেয়ারম্যান তথা জলপাইগুড়ির তৃণমূল জেলা সভপতি সৌরভ চক্রবর্তীর সঙ্গেও কথা হয় চিকিৎসক কুমার অতনুর। তিনিও অনশন প্রত্যহারের অনুরোধ করেন। তাঁর অনুরোধেই সরকারি আইনজীবী গৌতম দাস সন্ধ্যায় মঞ্চে আসেন। তিনি আশ্বাস দেন আলোচনায় বসে সমস্যাগুলির সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এর পরেই গৌতমবাবুর হাত থেকে ফলের রস খেয়ে অনশন ভঙ্গ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here