complainant at kotwali ps with his goat's deadbody

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দিন কয়েক আগে একুশখানা মৃত মুরগি নিয়ে কোতোয়ালি থানায় হাজির হয়েছিলেন এক গৃহবধূ। বিষ খাইয়ে তার পোষ্য মুরগিগুলোকে ‘খুন’ করেছে প্রতিবেশী আত্মীয়, এই অভিযোগ করে পুলিশের কাছে সুবিচার চেয়েছিলেন তিনি। পুলিশের হস্তক্ষেপে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মুরগির দামও পেয়ে গিয়েছিলেন। সোমবার কাঁধে মৃত ছাগল নিয়ে থানায় হাজির এক কৃষক। অভিযোগ, তাঁর পোষ্যকেও বিষ দিয়ে খুন করছে প্রতিবেশী বাবা-ছেলে।

জলপাইগুড়ির রানিনগরের বাসিন্দা পেশায় কৃষক মানিক সরকার। চারটি পোষ্য ছাগল রয়েছে তাঁর। তার মধ্যে প্রিয় ‘কালুয়া’র দেহ নিয়ে সোমবার দুপুরে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় হাজির হন মানিক সরকার। কাঁধে মৃত ছাগলের দেহ নিয়ে থানায় ঢুকতেই কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়েন ডিউটি অফিসার। ছাগল ‘খুন’-এর কথা শুনে কী ধারায় অভিযোগ নেবেন তা নিয়ে ধন্দে পড়েন তিনি। এ বার ওই কৃষককে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান কোতোয়ালির আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার। কৃষক তাঁর ‘অভিযোগ’ সবিস্তার জানান আইসিকে। তাঁর অভিযোগের তির প্রতিবেশী খগেন সরকার এবং তাঁর ছেলে লিটন সরকারের দিকে। মানিকবাবুর বাড়ির পাশেই তাঁদের চাষের জমি। সেখানে টমেটো, রসুন চাষ হয়। খাবারের লোভে সেই জমিতে প্রায়ই ঢুকে পড়ত মানিকবাবুর পোষ্য ছাগলগুলি। এর আগে বেশ কয়েক বার বাবা-ছেলে তাঁর পোষ্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল, জানিয়েছেন মানিকবাবু।

ফসল নষ্ট করার শোধ তুলতে রবিবার বিকেলে ছাগলের প্রিয় খাবার ভুষির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ছাগলগুলিকে খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর। বাড়ি ফিরেই ছাগলগুলি অসুস্থ হয়ে পড়ে। রাতে ‘কালুয়া’ মারা যায়। অন্য তিনটির অবস্থাও সঙ্গিন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সালিশি করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানালেও ঘটনার দায় নিতে অস্বীকার করেন ওই প্রতিবেশী। তাই সোমবার প্রিয় পোষ্যর দেহ নিয়ে সুবিচার চেয়ে সটান থানায়। তবে তাঁকে নিরাশ করেনি পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২৯ ধারায় তাঁর অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, গৃহপালিত পশুর হত্যা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা দু’টোই এক সঙ্গে হতে পারে। মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ‘কালুয়া’র দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে প্রাণীসম্পদ দফতরে। তবে বিষ মিশিয়ে পোষ্য হত্যার দায় নিয়ে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বাবা-ছেলে।

এই ভাবে তাঁর প্রিয় ‘কালুয়া’র হারিয়ে যাওয়া মেনে নিতে না পারলেও মানিকবাবু সুবিচারের দায় পুলিশের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন