rupchandkundu and other artists
শিল্পীদের মাঝে রূপচাঁদ কুণ্ডু।
smita das
স্মিতা দাস

“দেওয়ালে ছবি টাঙানো – এটা সবাই জানি, দেখি। এ বার সময় এসে গেছে দেওয়াল ভেদ করে বেরিয়ে যাওয়ার। এর বাইরে নতুন কিছু ভাবতে হবে”, ‘কলকাতা পেন্টার্স একজিবিশন’-এ খবর অনলাইনকে এ কথা বললেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী রূপচাঁদ কুণ্ডু। সৃষ্টির উদ্যোগে এই প্রদর্শনী চলছে গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায়। শুরু হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি , চলবে ২১শে পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা অভিমন্যু দাস বলেন, এই প্রদর্শনী মূলত হাতে আঁকা ছবি আর মূর্তি নিয়ে। কেবলমাত্র কলকাতাবাসী শিল্পীদের ছবি আর মূর্তিই রাখা হয়েছে। এর পর মে-জুন মাস নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের সব ক’টি জেলার শিল্পীদের নিয়ে প্রদর্শনী করা হবে। উদ্দেশ্য জেলাশিল্পীদের গুরুত্ব দেওয়া। সেই প্রদর্শনীও হবে কলকাতাতেই। ২৭ জন শিল্পীর মোট ৬৯টা কাজ এখানে রাখা হয়েছে। মিক্স মিডিয়া, ওয়াটার কালার অ্যাক্রিলিক, ক্যানভাস থেকে পেনস্কেচ, চারকোলের কাজ সব রকমের ছবিই এখানে আছে। রয়েছে মেটাল থেকে ওষুধের স্ট্রিপের তৈরি ভাস্কর্যও।

paintingনতুন শিল্পীদের উদ্দেশে কিছু টিপস? উত্তরে রূপচাঁদবাবু খবরনলাইনকে বলেন, বিদেশের উন্নত দেশগুলোতে সমসাময়িক সময়ে কী কাজ হচ্ছে সেটা দেখতে হবে। ভাবতে হবে। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। তাই পুরোনো ধারণার শৈলী নিয়ে কাজ করলে হবে না। শুরু হয়েছে রিয়ালিজম নিয়ে কাজ। তার পর সুরিয়ালিজমও হয়ে গেছে। এ বার ভাবাই যায় সুপাররিয়ালিজম নিয়ে। আবার তার মধ্যেও নতুন কিছু করা যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখতে হবে। বিষয়ে ঢুকতে হবে।

এর পর ঘুরতে ঘুরতে দেখা হয়ে গেল শিল্পীদের সঙ্গে। কথাও হল। কালোভ্রমর পাল, স্রগধারা ভৌমিক, পম্পা রায়-সহ অনেকের সঙ্গেই। স্রগধারা বলেন, নিজের একটা মৌলিক পরিচয় তৈরি করতে চান। তাই বিশেষ একটা ফর্ম বেছে নিয়েছেন। ভোর আর রাতের নিঃস্তব্ধতায় তিনি কাজ করেন। সৃষ্টি তখন যেন কথা বলে। কালোভ্রমর মূলত রিয়ালিস্টিক ছবি আঁকতে পছন্দ করেন। তবে রঙের খেলায় মনের মতো করে পরীক্ষানিরীক্ষা করেন প্রচুর।

sculpture nade of medicine foils
ওষুধের ফয়েলে তৈরি ভাস্কর্য।

ছবিগুলো দেখতে দেখতে দেখা হয়ে গেল যিনি ওষুধের স্ট্রিপ দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করেছেন সেই বিমান নাগের সঙ্গেও। পেশায় ট্রেনচালক। শখ এই ভাস্কর্য তৈরি করা। ছোটো থেকে হরিণঘাটার দুধের ঢাকনা দিয়ে এই কাজ শুরু করেছিলেন। এখন ওষুধের স্ট্রিপ দিয়ে তৈরি করেন। তাঁর দাবি, তিনি পৃথিবীর প্রথম শিল্পী যিনি ওষুধের ফয়েল দিয়ে এই শিল্পসৃষ্টি করেছেন। জানান, তিনি লিমকা বুক অব রেকর্ডসে আবেদন জানিয়েছেন। ৫০টার ওপর মূর্তি ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছেন তিনি।

রূপচাঁদবাবুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেমন লাগল নতুন শিল্পীদের কাজ? উত্তরে তিনি বলেন, সবাই চেষ্টা করছে ভালো কাজ করার, এটা ভালো লাগছে। প্রত্যেকে বিভিন্ন স্টাইল নিয়ে কাজ করছে। নতুন শিল্পীরা জঙ্গলের পথে পথে হাঁটা শুরু করেছেন। নিজেদের মতো করে এগিয়ে গিয়ে অবশেষে জঙ্গলের ওপারে সবাই এক জায়গায় গিয়ে মিলব। গন্তব্যটা তো একই।

stone sculpture
পাথরের ভাস্কর্য।

নতুন শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিল্প কোনো সমঝোতা মানে না। আর্ট মানেই পার্ফেকশন। তাই এর শেষ নেই। চলতে হবে। থেমে গেলেই শেষ। নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, পরিচয় গড়ে তুলতে হবে।  ভেঙে বেরিয়ে যেতে হবে।

প্রদর্শনীতে চোখে পড়ল উৎসাহী দর্শকদের ঢল। কলেজ পড়ুয়া থেকে প্রাজ্ঞজন বাদ যাননি কেউই। বুধবারও থাকছে এই প্রদর্শনী।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন