md. shahadat hossain

কলকাতা: শুক্রবার সকালে শিয়ালদহ জগৎ সিনেমার সামনে থেকে গ্রেফতার করা হল মহম্মদ শাহাদাত হোসেন ওরফে বাবুকে। সে বাংলাদেশের যশোর জেলার বাসিন্দা। আগে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এর সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শাহাদাত এক জন দালাল। ওমর ফারুক নামে আরও এক জঙ্গির খোঁজ শুরু করল পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এর সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: হিট লিস্টে বাংলাদেশের ৮৪ জন ব্লগারের নাম রয়েছে, জেরায় জানিয়েছে ধৃত আনসার সদস্যরা

ধৃত শাহাদাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য পেয়েছে কলকাতাআরও পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স৷ হদিস পাওয়া গিয়েছে আরও দু’ জনের৷ এরা হল স্বপন বিশ্বাস ও নয়ন গাজী৷ নয়ন গাজী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া না গেলেও স্বপন সম্পর্কে পাওয়া গিয়েছে একাধিক তথ্য৷ এই স্বপন আনসার বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গিয়েছে৷ স্বপন স্পেশাল অপারেশন গ্রুপেরও সদস্য৷ তার বিরুদ্ধে এক ব্লগারকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে৷ প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, সামসেদের মতো স্বপনও শাহাদাতের মাধ্যমে এ রাজ্যে আসে৷ এখান থেকেই তারা দু’ জনেই বেশ কিছু দিন একসঙ্গে হায়দরাবাদে ছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ ৷

পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, সামসেদ কলকাতায় আসার কয়েক দিন পরেই কলকাতায় আসে স্বপনও৷ ১ অক্টোবর সে কলকাতায় আসে বলে জানা গিয়েছে৷ হাওড়ার একটি হোটেলে উঠেছিল সে৷ সেই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, তার সঙ্গে ছিলেন নয়ন গাজী নামে আরও একজন বাংলাদেশি। হোটেলে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বাজিতপুর এলাকার ঠিকানা দিয়ে আধার কার্ড বানিয়েছিল স্বপন৷ সেই আধার কার্ডই পরিচয়পত্র হিসেবে সে দিয়েছে হোটেলে৷ শাহাদাত হাওড়ায় এসে দেখা করে স্বপনের সঙ্গে৷ তাকে এখানে থাকার জায়গা খুঁজে দিতে বলে৷ হোটেলের সিসিটিভি চেক করেই নয়ন গাজীর সন্ধান পায় পুলিশ৷

আরও পড়ুন: কলকাতা স্টেশন থেকে গ্রেফতার আনসার বাংলা জঙ্গি সংগঠনের তিন সক্রিয় সদস্য

শাহাদাত সম্পর্কে জানা গিয়েছে, সে যশোর জেলার বাসিন্দা৷ নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে৷ সীমান্ত এলাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে৷ এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়েই পাচারের কাজ করত সে৷ অস্ত্রপাচারও তার হাত দিয়ে হয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ৷ শুধু এরা দু’জন নয়, আরও ২০-২৫ জন জঙ্গি এ দেশে রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা৷ ধৄতদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ যে দু’জনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে৷ এদের সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানান কলকাতা পুলিশের এসটিএফের ডেপুটি কমিশনার মুরলীধর শর্মা৷

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here